বরাক তরঙ্গ, ২ জুলাই : রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যার তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির ওপর সরকার নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তার ঘোষণাও করেছে। এই প্রেক্ষাপটে অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বন্যাদুর্গত মানুষের পুনর্বাসন, ত্রাণ কার্যক্রম এবং কীভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি এবং বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ডাবল ইঞ্জিন সরকার এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যেই আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।”
উল্লেখ্য, বর্ষার প্রথম দফার বন্যায় রাজ্যে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে কেন্দ্র ও অসম সরকারের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর অতিরিক্ত মুখ্যসচিব কে. কে. দ্বিবেদী এবং অসম ভবনের আবাসিক আয়ুক্ত কবিতা পদ্মনাভন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে অসমের বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু রাজ্য সফর করেছিলেন। সেই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠক সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে লেখেন, “আজ দিল্লিতে মাননীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছি। সম্প্রতি অসম সফর করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। বৈঠকে তিনি বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শও দিয়েছেন।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও সামাজিক মাধ্যমে বৈঠকের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি জানান, নয়াদিল্লিতে নিজের সরকারি বাসভবনে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। বর্ষাকালে বন্যা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “অসমের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ষার বন্যার সময় যে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসার দাবিদার। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে অসম অভূতপূর্ব উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।”



