বরাকে রেশন পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়াতে পর্যালোচনা বৈঠক কৌশিকের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১ জুলাই : বরাক উপত্যকার তিন জেলা—কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দিতে খাদ্য ও গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনমুখী করে তুলতে বুধবার শিলচরে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক। জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের খাদ্য, গণবণ্টন, ভোক্তা বিষয়ক, গৃহ ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় মন্ত্রী কৌশিক রায়।

বৈঠকে তিন জেলার বিধায়ক, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বরাক উপত্যকার লক্ষাধিক রেশন উপভোক্তার কাছে সরকারি পরিষেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া, গণবণ্টন ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং পরিষেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পর্যালোচনায় খাদ্যশস্যের নিয়মিত সরবরাহ, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের প্রাপ্যতা, ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলির কার্যক্রম, উপভোক্তাদের অন্তর্ভুক্তি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি, পরিষেবার মান, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

তিন জেলার আধিকারিকরা নিজ নিজ জেলার অগ্রগতি, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলির সমাধানে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। মন্ত্রী কৌশিক রায় মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের কাছ থেকেও সরাসরি মতামত গ্রহণ করেন, যাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তার সমাধান করা যায়।

বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো প্রতিটি যোগ্য উপভোক্তার হাতে নির্ধারিত সময়ে রেশন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। খাদ্যশস্য সরবরাহে কোনও ধরনের বিঘ্ন যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলিকে নির্ধারিত নীতিমালা ও সময়সূচি মেনে পরিচালনার নির্দেশও দেন।

মন্ত্রী বলেন, গণবণ্টন ব্যবস্থা কেবল একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, এটি সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। তাই এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঘন ঘন পরিদর্শন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের অধিকার, সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আরও ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন কৌশিক রায়। তাঁর মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, তত দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, তিন জেলার রেশন বিতরণ, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলির কার্যক্রম, ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক কর্মক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। চিহ্নিত সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং পরিষেবার আরও উন্নতির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক এবং তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। তাঁর আশা, এদিনের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি বরাক উপত্যকার গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উপভোক্তারা সময়মতো আরও উন্নত ও ঝামেলামুক্ত পরিষেবা পাবেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের বিধায়ক ডা. রাজদীপ রায়, উধারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, ধলাইয়ের বিধায়ক অমিয়কান্তি দাস, বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ, কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, হাইলাকান্দির বিধায়ক ড. মিলন দাস, খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগের আয়ুক্ত হেমন্ত ভূঞা (এসিএস), কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা (আইএএস), অসম ফুড অ্যান্ড সিভিল সাপ্লাইজ কর্পোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা সঞ্চালক দিগন্ত দাসসহ তিন জেলার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *