বরাক তরঙ্গ, ১৬ আগস্ট : দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব করিমগঞ্জের উদ্যোগে অস্থায়ী কার্যালয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৫ আগস্ট সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মিহির দেবনাথ। পতাকা উত্তোলনের পর উপস্থিত সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মবলিদান দেওয়া বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় স্বাধীনতা আন্দোলনে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের ঐতিহাসিক ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে আসে। বক্তারা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমান সময়েও সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন, অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতার দায়িত্ব কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা তুলে ধরা, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতেও সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংঙ্গীতের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়। এতে অনুষ্ঠানে দেশপ্রেম ও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সদস্য ও সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হীরক দাস, এসএম জাহির আব্বাস, তনুশ্রী রায়, অরূপ রায় প্রমুখ। এছাড়াও মনোজ কুমার দাস, মঞ্জুশ্রী চক্রবর্তী, ইকবাল খান-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



