বরাক তরঙ্গ, ১ জুলাই : সভ্য সমাজে ফের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ঘরে মা-বাবা না থাকার সুযোগ নিয়ে মাত্র ৬ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকন্যাকে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হলো। ঘটনাটি ঘটেছে ধলাই থানা এলাকার পানিভরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরুরথল পুঞ্জিতে। এই জঘন্য কাণ্ডের পর তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী কামাসক্ত লম্পট প্রদীপ কালিন্দীকে জঙ্গল থেকে পাকড়াও করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরুরথল পুঞ্জির এক দম্পতির ৬ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুটির বাবা কাজের সূত্রে গুয়াহাটিতে থাকেন। ঘটনার দিন মা তাঁর ছোট্ট মেয়েটিকে ঘরে রেখে পাশ্ববর্তী জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। ঘর ফাঁকা থাকার এই সুযোগটাই নেয় রুকনি বাংলা টিলার বাসিন্দা প্রদীপ কালিন্দী (৩৫)। সে ঘরে ঢুকে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। মা জঙ্গল থেকে বাড়িতে ফেরার পর শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং শরীরের একাধিক অংশের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে মায়ের কাছে লম্পট প্রদীপের কুকীর্তির কথা ফাঁস করে। ঘটনার ভয়াবহতা শুনে মা তৎক্ষণাৎ গুয়াহাটিতে থাকা স্বামীকে ফোনে বিষয়টি জানান এবং প্রতিবেশীদের খবর দেন।
নৃশংস এই ঘটনার খবর চাউর হতেই গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে হিন্দুত্ববাদী নেতা অমলেন্দু দাস সহ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্ত প্রদীপের বাড়িতে চড়াও হন। তবে বেগতিক বুঝে তার আগেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। ঘটনার খবর পেয়ে ধলাই থানার অফিসার ইনচার্জ সর্বেশ্বর কুয়াড় দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি কালবিলম্ব না করে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং একটি মামলা নথিভুক্ত করে তদন্তে নামেন।
আজ সকালে খবর আসে, অভিযুক্ত প্রদীপ কালিন্দী রুকনি বাংলা টিলা এলাকার জঙ্গলের একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে আছে। খবর পাওয়া মাত্রই হিন্দুত্ববাদী নেতা অমলেন্দু দাস ও স্থানীয় জনতা সেখানে হানা দেন। লম্পট প্রদীপকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ধরে ফেলা হয় এবং উত্তেজিত জনতা তাকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে ধলাই থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত প্রদীপ কালিন্দী মূলত রুকনি বাগানের বাসিন্দা। সেখানে তার প্রথম স্ত্রী ও দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু তাদের ফেলে রেখে সে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করে গত কিছুদিন ধরে পানিভারা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরুরথল পুঞ্জিতে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিল। এই ঘটনার পর ধলাই জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ধৃত লম্পট, শিশু নির্যাতনকারী প্রদীপ কালিন্দীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তথা ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। ধলাই থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত জারি রেখেছে।



