মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের জনসংযোগে জোর, পাথারকান্দি ও সোনাখিরায় প্রবীণদের সঙ্গে মতবিনিময়

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুন :
সাধারণ মানুষের মতামতকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকায় একাধিক জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, বরাক উপত্যকা উন্নয়ন ও পার্বত্য এলাকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। এদিন তিনি প্রথমে বিজেপি পাথারকান্দি মণ্ডল কার্যালয়ে বিশিষ্ট ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। পরে সোনাখিরা এলাকায় প্রবীণ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এলাকার উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

পাথারকান্দি মণ্ডলে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্রামীণ উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে উপস্থিত প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও দলীয় কর্মীরা মতামত তুলে ধরেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা সমাজের অমূল্য সম্পদ। তাঁদের গঠনমূলক পরামর্শ উন্নয়নের পথকে আরও শক্তিশালী করে এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তিনি আশ্বাস দেন, মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

এরপর সোনাখিরায় অনুষ্ঠিত সভায় এলাকার প্রবীণ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী। সভায় অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, কৃষি, পানীয় জল সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। মন্ত্রী মনোযোগ সহকারে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

আলোচনায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আদর্শ এবং সমাজগঠনে তাঁদের অবদানও তুলে ধরা হয়। আত্মনির্ভর ভারত, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সমাজসেবার আদর্শ অনুসরণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠান শেষে প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কৃষ্ণেন্দু পাল। অনানুষ্ঠানিক এই পর্বেও এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। উপস্থিত নাগরিকরা মন্ত্রীর এই জনসংযোগমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আরও দায়িত্বশীল ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাবে। স্থানীয়দের মতে, এই ধারাবাহিক জনসংযোগ কর্মসূচি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *