বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুন : শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না পড়ুয়াদের নিয়মিত গল্প বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। আর ভাল পড়াশোনা করে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সোমবার শিলচর রাধামাধব কলেজ বিপিন চন্দ্র মেমোরিয়াল লাইব্রেরির উদ্যোগে শিলচর মেহেরপুরস্থিত ৪৩৫ নম্বর শকুন্তলা এলপি স্কুলে আয়োজিত ‘লাইব্রেরি লিটারেসি প্রোগ্রাম’ এর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কচিকাঁচা পড়ুয়াদের প্রতি এই আহ্বান জানান রাধামাধব কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. রাহুল চক্রবর্তী ।

এদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা টুসি দেবের পৌরহিত্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজ লাইব্রেরিয়ান ড. সোনালি চৌধুরী । তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন মূলতঃ ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহকে জাগিয়ে তুলতে প্রতিবছর এই ধরণের কার্য্যক্রম করা হয়ে থাকে এবং আজকেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে এধরণের প্রোগ্রাম আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ জানান। তাছাড়াও তিনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, আইকিউএসি-র কো-অর্ডিনেটর ও লাইব্রেরি কমিটির সকল সদস্যদের উক্ত কার্য্যক্রম সফল রূপায়ণে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এদিকে নিজের বক্তব্যে আইকিউএসি-র কো-অর্ডিনেটর ড. রাহুল শরনিয়া বলেন, পাঠ্যবই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত পক্ষে ১০/১৫ মিনিট গল্পের বই পড়ার জন্য ছাত্র ছাত্রীদের পরামর্শ দেন। বলেন ছোট বেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে তাহলে বড় হয়ে কোন অসুবিধা থাকবে না। বই বেশি পড়লে বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, তাছাড়া দেশ বিদেশের নানা অজানা তথ্য জানা সম্ভব । তিনি পড়ুয়াদের মোবাইলের প্রতি আসক্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি একজন চরিত্রবান তথা সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য রাধামাধব কলেজ বিপিন চন্দ্র মেমোরিয়াল লাইব্রেরির পক্ষ থেকে মোট ষাট জন পড়ুয়ার হাতে গল্পের বই, খাতা, কলম, পেন্সিল বক্স ইত্যাদি তুলে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে স্কুল লাইব্রেরির জন্য কিছু মূল্যবান পুস্তক, এনসাইক্লোপিডিয়া, বিভিন্ন ধরণের চার্ট তুলে দেওয়া হয় স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস রায়, রাধামাধব কলেজের গ্রন্থাগার কর্মী কমলেশ দাশ, উজ্জ্বল কর্মকার ও সন্দীপ নাথ, শিক্ষিকা যথাক্রমে রাজশ্রী পাল, পিয়ালি দাস, শিল্পী দাস পাল, নীহারিকা রায়, সিদ্দিকা জহরা আক্তার মজুমদার প্রমুখ।



