যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক চুক্তিতে সই করল ইজরায়েল-লেবানন

Spread the news

২৭ জুন : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দিনের আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর স্বাক্ষরিত এই সমঝোতাকে উভয় পক্ষই শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ওয়াশিংটনে মার্কিন বিদেচ দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এবং ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় নথিতে স্বাক্ষর করেন। তবে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই পদক্ষেপ একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় যাত্রার সূচনা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও সহিংসতা বন্ধে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও জানান, ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন উল্লেখযোগ্য অর্থ ও সম্পদ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে তাৎক্ষণিক ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ অস্ত্র ত্যাগ না করলে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সীমিত উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ এই চুক্তিতে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ইজরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে, লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এই সমঝোতাকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার বলেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর প্রভাব কমে আসছে এবং ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তির একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত লেবানিজ নাগরিকরা নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত লেবানন সীমান্তেও ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইজরায়েল বিমান ও স্থল অভিযান চালায়। এতে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও মাঠের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। শুক্রবার ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে হিজবুল্লাহর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। যদিও স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *