বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুন : উধারবন্দের জগন্নাথ সিং কলেজে মঙ্গলবার দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের এনএসএস ইউনিট, গুয়াহাটিভিত্তিক জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ১ম ব্যাটালিয়ন এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ গুণমান নিশ্চিতকরণ কোষ (আইকিউএসি)-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রছাত্রী, এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলা। কর্মসূচিতে দুর্যোগ প্রস্তুতির মৌলিক ধারণা, প্রাথমিক চিকিৎসা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, বন্যাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিরাপদ স্থানান্তর (ইভাকুয়েশন) পদ্ধতি এবং অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এনডিআরএফ-এর ১ম ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও জওয়ানদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ কলেজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. এস. সমরেন্দ্র সিংহ। তিনি বর্তমান সময়ে দুর্যোগ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এমন প্রশিক্ষণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। তিনি কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের জন্য এনএসএস ইউনিট ও এনডিআরএফ-কে ধন্যবাদ জানান।
মূল বক্তব্য রাখেন কলেজের এনএসএস কর্মসূচি আধিকারিক ড. শ্যাম মামুদ বড়ভুইয়া। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা না গেলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণের প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
প্রধান রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডিআরএফ-এর ১ম ব্যাটালিয়নের পরিদর্শক রৌশান কুমার সিং। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি হ্রাস, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, দলগত সমন্বয় এবং জনসচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যকর কৌশলও তুলে ধরেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল এনডিআরএফ দলের হাতে-কলমে প্রদর্শনী। এতে উদ্ধারকাজের কৌশল, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং জরুরি অবস্থায় নিরাপদ স্থানান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়। এই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারীদের দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয় এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। কর্মসূচিতে কলেজের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ



