বদরপুরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে তীব্র আপত্তি, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নাগরিক কমিটির

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুন : বদরপুরের নাম পরিবর্তনের সম্ভাব্য উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন প্রতিরোধ নাগরিক কমিটি। কমিটির আহ্বায়কবৃন্দ সুনীতরঞ্জন দত্ত, রজত চক্রবর্তী, অরুণাংশু ভট্টাচার্য, তাপস পুরকায়স্থ, বদরুল হক চৌধুরী এবং সুদীপ্তা দে চৌধুরী এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বদরপুরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় বিধায়কের উদ্যোগে বদরপুর পুরসভার এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন নামে পুরসভা গঠনের যে প্রস্তাব সামনে এসেছে, তা কার্যত ঐতিহাসিক বদরপুরের নাম পরিবর্তনেরই প্রচেষ্টা। শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই নামের সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ, আত্মপরিচয় ও ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই নাম পরিবর্তনের এমন উদ্যোগ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছে কমিটি।

নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কোনও বাস্তব কল্যাণ সাধিত হবে না। বরং এটি একটি সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তাঁরা করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও জনমতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, গত বছরের জেলা-ব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সাফল্য থেকেই মানুষের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবুও সরকার সেই জনমতকে উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোনও জেলা বা স্থানের নাম পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নেওয়া উচিত। কিন্তু জনমতকে অগ্রাহ্য করে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন আহ্বায়কবৃন্দ।

তাঁদের দাবি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভগৎ সিং, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজি নজরুল ইসলাম ও ক্ষুদিরামের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান ব্যক্তিত্বরা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, নাম পরিবর্তনের মতো বিভাজনমূলক পদক্ষেপ সেই আদর্শের পরিপন্থী। এর ফলে জাতি, ধর্ম, ভাষা ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

নাগরিক কমিটির বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের পদধূলিধন্য বদরপুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে বদরপুর রেলস্টেশনের নামও সুপরিচিত। নাম পরিবর্তনের সঙ্গে জনস্বার্থ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা জীবনমানের উন্নয়নের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সরকারি নথিপত্র পরিবর্তনের কারণে সাধারণ মানুষকে আর্থিক ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বদরপুরবাসীর কাছে বদরপুর কেবল একটি নাম নয়, তাদের পরিচয় ও মাতৃভূমির প্রতীক। তাই এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মানুষের সেই আবেগকে আঘাত করছে বলে অভিযোগ করেন আহ্বায়কবৃন্দ।
শেষে করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন প্রতিরোধ নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বদরপুরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *