মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ জুন : প্রবাসে বসবাস করলেও জন্মভূমি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা যে কখনও ফিকে হয় না, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি বিধানসভার লোয়াইরপোয়া ব্লকের সলগৈই বাজার এলাকার বাসিন্দা তথা বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী সমাজসেবী কানু বৈদ্য। মানবসেবা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মা-বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধের অনন্য সমন্বয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নীরবে সহযোগিতা করে চলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ চয়ন বৈদ্য ও আম্বিকা বৈদ্যের চতুর্থ পুত্র কানু বৈদ্য দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বসবাস করছেন। বিদেশে কর্মব্যস্ত জীবনযাপন করলেও তিনি কখনও নিজের শিকড় ও জন্মভূমির মানুষের কথা ভুলে যাননি। বরং সেখানে অর্জিত আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করছেন সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কাজে। বিগত কয়েক বছরে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা, অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা, বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অনুদান প্রদানসহ একাধিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব কাজের জন্য তিনি কখনও প্রচার বা ব্যক্তিগত স্বীকৃতি প্রত্যাশা করেননি।
সাধুকুটি আখড়ায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা; মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজসেবার অনন্য সমন্বয়ে প্রবাসী সন্তানের মানবিক উদ্যোগ
সম্প্রতি তিনি পাথারকান্দি বিধানসভার রাধাপিয়ারি জিপির অন্তর্গত সাধুকুটি আখড়ায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের স্থায়ী ব্যবস্থা করে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই আখড়ায় পানীয় জলের সংকট ছিল। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, নাম-সংকীর্তন ও বার্ষিক উৎসবের সময় ভক্তদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। কানু বৈদ্যের উদ্যোগে সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হয়েছে।
লন্ডন থেকে টেলিফোনে আলাপচারিতায় কানু বৈদ্য জানান, মা-বাবার আশীর্বাদ ও ত্যাগই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সম্প্রতি মা-বাবাকে নিয়ে বিভিন্ন তীর্থস্থান পরিদর্শনের সুযোগ পাওয়ার পর সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও বেশি কিছু করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “তীর্থযাত্রার সময় আখড়ার মহন্ত ও সেবায়েতদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি যে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবই তাঁদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত সেখানে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিই। সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সামান্য কিছু করতে পারাও আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।”

সাধুকুটি আখড়ার মহন্ত, সেবায়েত, ভক্তবৃন্দ এবং আখড়া পরিচালনা কমিটির সদস্যরা কানু বৈদ্যের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, তাঁর সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়েছে, ফলে এখন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সহজ হবে। এলাকার বিশিষ্টজনদের অভিমত, বিদেশে বসবাস করেও কানু বৈদ্য যেভাবে নিজের মাটি, মানুষ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের অন্যান্য প্রবাসী ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
স্থানীয়দের মতে, কানু বৈদ্যের এই উদ্যোগ শুধু একটি পানীয় জলের প্রকল্প নয়; এটি জন্মভূমির প্রতি একজন প্রবাসী সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার প্রতীক। মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাস এবং সমাজের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার সমন্বয়ে তিনি আজ পাথারকান্দি তথা সমগ্র অঞ্চলের মানুষের কাছে একজন দায়িত্বশীল ও অনুকরণীয় সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।



