মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ জুন : সদ্য অসম বিধানসভায় গৃহীত ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি), ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই শ্রীভূমি শহর সংলগ্ন মেদল-শারিফনগর জিপির অন্তর্গত বাঘন গ্রামের প্রধান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সম্প্রতি এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা বিলটি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ ও আপত্তির কথা তুলে ধরেন। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, ভারতের মতো বহুত্ববাদী সমাজে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের আগে সব ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা বলেন, ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালন, সংস্কৃতি চর্চা এবং ব্যক্তিগত আইন অনুসরণের অধিকার প্রদান করেছে। ইউসিসি কার্যকর হলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আইন, পারিবারিক রীতি-নীতি ও সামাজিক প্রথার ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। তাই এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রতিবাদকারীরা দাবি জানান, ইউসিসি বিলটি পুনরায় রাজ্যপালের কাছে পাঠিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, আইন বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক। তাঁদের মতে, আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোই গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বক্তারা আরও বলেন, ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত। বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্ববোধ অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে সকল সম্প্রদায়ের অনুভূতি ও মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। কোনো আইন যেন সামাজিক সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়েও সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঘন জামে মসজিদের ইমাম মওলানা সামাদ উদ্দিন, সমাজসেবী ইসমাইল হক, মাহবুবুল হক চৌধুরী, আব্দুল বাসিত, আনসার জমির উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, রবিক উদ্দিন এবং করিম মিয়াসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও বিভিন্ন বয়সের শতাধিক মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে দেশের ঐক্য, সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে ইউসিসি বিল নিয়ে আরও বিস্তৃত জনমত ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।



