বরাক তরঙ্গ, ১১ জুন : মণিপুরে ছয়জন নাগা নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। তিনি সকল পক্ষকে শান্তি, সংযম ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী রিও ঘটনাটিকে “ভয়াবহ, নির্মম ও অমানবিক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নাগা সমাজকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে এবং মানবজীবনের মর্যাদা ও পবিত্রতার প্রতি চরম অবহেলার পরিচয় বহন করছে।
রিও বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে এই সত্য যে, নাগা জনগণ তাদের হেফাজতে থাকা ১৪ জন জিম্মিকে শান্তিপূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে নিরাপদে মুক্তি দিয়েছিল। অথচ তার পরেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের পুরো সময় মানবিক আচরণের মাধ্যমে রাখা হয়েছিল এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের অক্ষত অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়। তাই পরবর্তী এই হত্যাকাণ্ড নাগা সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে অপহৃত ছয়জন নাগা ব্যক্তির মৃতদেহ বুধবার মণিপুরের কাংপোকপি জেলার একটি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
মৃতদেহ উদ্ধারে মণিপুর পুলিশ, সিআরপিএফ এবং আসাম রাইফেলসের প্রায় ৪৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী টানা ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালান। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোটলেন এলাকায় সংঘটিত একটি ঘটনার জেরে কুকি গোষ্ঠীর সদস্যরা কনসাখুল গ্রামের ১৮ জন নাগা বাসিন্দাকে অপহরণ করেছিল, যার ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কিছু কুকি ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে মঙ্গলবার ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের মধ্যস্থতায় আটক ১৪ জন কুকি ব্যক্তিকে মুক্ত করে সেনাপতি জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে সকল সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও।



