বরাক তরঙ্গ, ৯ জুন : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে সোমবার এক বিশেষ একাডেমিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. দিলীপচন্দ্র নাথ জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্ভাবনা সম্পর্কেও আলোকপাত করেন।
বক্তৃতায় ড. নাথ বলেন, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক এবং এর বিভিন্ন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষতা বিকাশ এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গঠনে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। তাঁর ভাষায়, “ক্ষমতা বৃদ্ধি হলো একটি ইঞ্জিন, আর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য হলো সেই ইঞ্জিনের গন্তব্যস্থল।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে দক্ষতা, সম্পদ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সক্ষম করে তোলাই ক্ষমতা বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায়। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সজলেন্দু দাস লস্কর ও ড. চন্দন দে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল, অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার ড. অভিজিৎ নাথ এবং ফিন্যান্স অফিসার ড. রণবিজয় দে উপস্থিত ছিলেন। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে মূল বক্তা এবং অন্যান্য অতিথিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিপুল সংখ্যক শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন।



