৮ জুন : বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন দলের অন্তত ২০ জন সাংসদ। সোমবার দিল্লিতে (Delhi) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের এই ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে এনডিএ (NDA)-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন সাংসদরা।
দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরের ক্ষোভ অবশেষে প্রকাশ্যে এল। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের চিফ হুইপ পদ থেকে অপসারণের বিষয়টিকে ‘একপাক্ষিক’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করে তিনি সরাসরি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। কাকলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা জনাদেশ পেয়েছেন উন্নয়নের জন্য। তাদের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক যাত্রা এনডিএ-র আদর্শের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
উল্লেখ্য, দিল্লির ৯ নম্বর মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে এদিন তৃণমূলের ১৪ জন সাংসদকে দেখা যায়। বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হতেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। বিশেষ করে, সাংসদ ও অভিনেতা দেবের উপস্থিতি নিয়ে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, একটি নীল শার্ট ও জিন্স পরিহিত দেবকে বৈঠকের এক কোণে এমনভাবে আড়াল করে বসে থাকতে দেখা গেছে যে, ক্যামেরায় তাকে খুঁজে পাওয়াই ছিল দুষ্কর। জানা গিয়েছে, দেব নাকি আগে থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলে বৈঠকে গিয়েছিলেন।
অপরদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজে থেকেই কিছু নাম জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অংশ নন। এই তালিকায় রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়, সায়নী ঘোষ। বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, ইউসুফ পাঠান বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গেই আছেন বলে জানা গিয়েছে।
গত লোকসভা নির্বাচনে ২৯টি আসন পেলেও বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামের প্রয়াণে দলের আসন সংখ্যা কমেছে। এবার এই ২০ জন সাংসদের বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হতে পারে। দিল্লিতে যখন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তাদের নাকের ডগায় এই দলবদলের মহড়া তৃণমূলের ভিত আরও আলগা করে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রের খবর, এই বিদ্রোহী সাংসদেরা এ দিনই লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিয়ে আলাদা করে বসার জায়গা পাওয়ার অনুরোধ করবেন। বিভিন্ন সূত্রের খবর, অন্তত ২০ জন তৃণমূল সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দেবেন। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে থাকা বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ শর্মিলা সরকার। তিনি জানান, তাঁরা আলাদা জায়গায় বসতে চেয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিচ্ছেন। উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে চান তাঁরা। সাংসদের দাবি, বাংলা উন্নয়নের খাতে পিছিয়ে পড়েছে, সেই উন্নয়ন যাতে হয় সেই ভেবেই পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাঁরা। তৃণমূলের মধ্যে এমন নানা বিষয় ঘটেছিল, যেগুলি তাঁর অপছন্দ ছিল। সেই ভুলগুলিকে সামনে এনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে জানান শর্মিলা সরকার। তারপরেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।



