মধ্যরাতে বুলডোজার অভিযান যাদবপুর স্টেশনে; লাঠিচার্জ, আটক সৃজন-সুজনসহ অনেকে

Spread the news

৮ জুন : হুঁশিয়ারি ছাড়াই মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযানে নামল রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। সোমবার রাতে যাদবপুর স্টেশনে এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা (Jadavpur Hawkers Eviction)। হকারদের রুজি-রুটি বাঁচাতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হয় বামফ্রন্টের নেতৃত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘটনায় সৃজন ভট্টাচার্য ও সুজন চক্রবর্তীসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

২ জুন রাতেও একইভাবে উচ্ছেদের প্রস্তুতি নিলে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটেছিল প্রশাসন। সে সময় রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলবে। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সোমবার রাতে আচমকা বিশাল পুলিশ বাহিনী, আরপিএফ ও বুলডোজার নিয়ে যাদবপুর স্টেশনে হাজির হয় প্রশাসন।

উচ্ছেদের খবর চাউর হতেই এলাকা দখলের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন বামফ্রন্টের কর্মীরা। সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও হকাররা স্টেশনের বাইরে জমায়েত করেন। রবীন্দ্রনাথ, আম্বেদকর ও প্রীতিলতা ওয়েদেদারের ছবি হাতে প্রতিবাদে শামিল হন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। অভিযোগ, এই ঘটনায় বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তীসহ একাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। পরে বাম নেতৃত্বের একাংশকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও বাহিনীর ব্যারিকেডে ঘিরে ফেলে গভীর রাতে একের পর এক দোকান ভাঙা শুরু হয়। রাতারাতি রুজি-রুটি হারিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হকাররা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া কোনোভাবেই উচ্ছেদ মানা হবে না।

শিয়ালদা ও হাওড়ার পর যাদবপুরেও এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে বাম নেতৃত্ব। এখন দেখার বিষয়, পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে আগামী দিনে এলাকায় নতুন করে কী আন্দোলন দানা বাঁধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *