৬ জুন : দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীর বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকায়। যে দিন কেরিয়ারের একটি বড় ধাপ পেরোনোর কথা ছিল, সে দিনই ফ্ল্যাটের মেঝে থেকে উদ্ধার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপিকার নিথর দেহ। মৃত দেবস্মিতা পাল শিবাজি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা ছিলেন। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৪ জুন তাঁর একটি পদোন্নতির ইন্টারভিউ ছিল। কিন্তু ওই দিন তিনি উপস্থিত না হওয়ায় সহকর্মীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪৩ বছর বয়সি দেবস্মিতা বসুন্ধরা এনক্লেভের ‘সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট’-এর একটি ফ্ল্যাটে গত ৪-৫ বছর ধরে একাই থাকতেন। ঘটনার দিন সকালের দিকে তিনি তাঁর মায়ের জন্য ওষুধ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। ময়ূর বিহারের বাসিন্দা দেবস্মিতার দিদি দেবারতি পাল (৪৯) দীর্ঘক্ষণ বোনের কোনও খোঁজ না পেয়ে বিকেলের দিকে সরাসরি তাঁর ফ্ল্যাটে পৌঁছন। সেখানে গিয়েই তিনি দেখেন, ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ। দিদি দেবারতি স্থানীয় বাসিন্দা ও রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (আরডব্লিউএ)-এর সদস্যদের ডেকে পাঠান। তাঁদের উপস্থিতিতেই দরজার তালা ভাঙা হয়। ভিতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, ঘরের মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন দেবস্মিতা। দুপুর প্রায় ২টো ৩৫ মিনিট নাগাদ নিউ অশোক নগর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
পূর্ব দিল্লির ডিসিপি রাজীব কুমার জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটে বলপূর্বক প্রবেশের কোনও প্রমাণ মেলেনি। দরজার লক বা জানলাও ভাঙা ছিল না। ফলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আততায়ী অধ্যাপিকার পরিচিত কেউ হতে পারে, যার জন্য দেবস্মিতা নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১০৩(১) ধারায় খুনের মামলা রুজু করেছে। পুলিশের অপরাধদমন শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সম্পূর্ণ ঘটনাস্থলের ভিডিওগ্রাফিও করা হয়েছে।



