বরাক তরঙ্গ, ৫ জুন : বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন। এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনের আসাম রাজ্য কমিটির আহ্বায়ক অজয় আচার্য এবং হিল্লোল ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, আসামে বিদ্যুতের মাশুল ইতিমধ্যেই দেশের বহু রাজ্যের তুলনায় বেশি। এর মধ্যেই ‘ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার পারচেজ প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট সারচার্জ’ (এফপিপিপিএ)-এর নামে ইউনিট প্রতি ১৬ পয়সা থেকে ২৮ পয়সা পর্যন্ত মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অন্যায় এবং জনবিরোধী।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষ যখন নাজেহাল, তখন বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের উপর নতুন করে আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, বিদ্যুৎ সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করছে এবং সরকারি অনুদানও পাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে আবার মাশুল বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দিল্লি, বিহার, তামিলনাড়ুসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণ মানুষকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অথচ রাজ্য সরকার যখন দাবি করছে যে অসম দেশের আর্থিকভাবে শীর্ষ পাঁচ রাজ্যের অন্যতম, তখন বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে এই মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের মতে, জনস্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনই হতে পারে কার্যকর প্রতিবাদের পথ।



