বরাক তরঙ্গ, ২ জুন : পুলিশের গুলিতে নিহত মাধুর্য বর্মন হত্যা মামলার অভিযুক্ত রোজ আলি ওরফে আসিফ খানের মরদেহ মঙ্গলবার নলবাড়ি জেলার দেহর কালাকুছি গ্রামের নিজ বাড়িতে আনা হয়। নলবাড়ির শহিদ মুকুন্দ কাকতি অসামরিক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে তাঁর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
জানা গেছে, নিজ বাড়ির পুকুরপাড়ে কড়া পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তবে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতি সেখানে ছিল না বললেই চলে।
এদিকে, নলবাড়ির কালাকুছি আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা এবং ছয়টি গ্রামের মসজিদ কমিটি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা রোজ আলীর জানাজায় অংশ নেবে না। পাশাপাশি, অভিযুক্তকে কোনও গণকবরস্থানে দাফনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। সোমবার অনুষ্ঠিত এক জনসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবারের জানাজায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, মাধুর্য বর্মন হত্যা এবং এক কিশোরীর উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত রোজ আলী ওরফে আসিফ খানকে সোমবার মুকালমুয়া চর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় সে এক পুলিশকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে তার বুকে গুলি লাগে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, রোজ আলির কয়েকজন আত্মীয় তাঁর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তাঁরা মেনে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে এবং কোনও অপরাধীকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভাজন বা অশান্তির সৃষ্টি না হয়, সেই আহ্বানও জানান



