বরাক তরঙ্গ , ২৬ মে : ধলাই বিধানসভার অন্তর্গত ভাগাবাজার এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে এবার সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। ৩০৬ নম্বর শিলচর-আইজল জাতীয় সড়কের ভাগাবাজার অংশে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে মঙ্গলবার সোনাই সার্কল অফিসার, পুলিশ প্রশাসন ও ভাগাবাজার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালান। অভিযানের সময় রাস্তার ওপর অবৈধভাবে বিস্তৃত দোকান ও অস্থায়ী স্টল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র পাঁচশ মিটার দীর্ঘ বাজার অংশটি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারের বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে ফুটপাত ও রাস্তার অংশ দখল করে নেওয়ায় যান চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিক্রেতাদেরও সড়কের ওপর বসতে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে যানবাহন পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় জাতীয় সড়কের উপরেই গাড়ি দাঁড় করাতে বাধ্য হচ্ছেন চালকেরা।

এছাড়াও বাজার এলাকায় অন্তত দশটি অবৈধ অটো ও ট্রাভেলার স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দোকানে মালামাল ওঠানামার সময় পণ্যবাহী যানবাহন দীর্ঘক্ষণ রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এর ফলে দূরপাল্লার যাত্রী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, অফিসযাত্রী এমনকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়ছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিনের মধ্যেই বাজার আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পরে ভাগাবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পথসভা আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন গাঁও পঞ্চায়েত সভানেত্রীর প্রতিনিধি মনসুর হিলাল, উপ-সভাপতি আমির হোসেন লস্কর, সাবির আহমেদ লস্কর এবং সাংবাদিক রাজীব হোসেন মজুমদার। তাঁরা রাস্তা দখলমুক্ত রাখা, শৃঙ্খলাপূর্ণ পার্কিং ব্যবস্থা চালু এবং অবৈধ স্ট্যান্ড বন্ধের আহ্বান জানান। পরবর্তীতে জিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন অটো স্ট্যান্ডের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে মত দেন। সভানেত্রী সাহেলা পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার পর প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।



