বরাক তরঙ্গ, ২৫ মে : রাজস্থানের যোধপুরের দুই বোনের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা যৌন নির্যাতন এবং পরবর্তীতে তাদের আত্মহত্যায় বাধ্য করার ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের বিজেপি সরকার আড়াল করছে—এই অভিযোগ তুলে আজ শিলচরের শহিদ ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে এক জোরালো বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। নারী সংগঠন অল ইন্ডিয়া মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন এবং যুব সংগঠন অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ইউথ অর্গানাইজেশন-এর কাছাড় জেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি রূপায়িত হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এআইএমএসএস-এর আসাম রাজ্য কমিটির অন্যতম নেতৃস্থানীয় সদস্য শম্পা দে দেশের বর্তমান নারী নিরাপত্তার চরম সংকটজনক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আজ দেশের সর্বত্র মহিলারা প্রতিনিয়ত শ্লীলতাহানি, যৌন লাঞ্ছনা, ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। নারী নিরাপত্তা আজ প্রহসনে পরিণত হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দেশের রাজধানী দিল্লির রাজপথে চলন্ত গাড়িতে এক মহিলাকে ধর্ষণের নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় স্তরেও এই ধরনের অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। কাছাড় জেলার বাদ্রীবস্তীর এক বয়স্কা মহিলার সাথে চলন্ত ট্রেনে সমাজবিরোধীদের অত্যন্ত অভব্য ও লজ্জাজনক আচরণ এর অন্যতম প্রমাণ।
সম্পা দে বলেন, “রাজস্থানের এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা দেশের মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে শাসকদল ও সরকার তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।” প্রতিবাদী সভা থেকে তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া প্রতিটি নারী নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। একই সাথে সমস্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আগামী দিনে নারী সমাজ, ছাত্র ও যুব সমাজকে সাথে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এআইএমএসএস এর স্বাগতা চক্রবর্তী, মায়া বাগতি, সবিতা বর্মন, রীম্পি বাগতি, এআইডিএসও এর পল্লব ভট্টাচার্য, আপনলাল দাস, রীতা বাগতি, স্বপন চৌধুরী, শেফালি দাস এবং এআইডিওয়াইও’র জেলা সভাপতি দীলিপকুমার রী সহ অন্যান্যরা।



