বরাক তরঙ্গ, ২৫ মে : সম্প্রতি টাকা কাণ্ডের বিতর্ক থামতে না থামতেই ফের শিরোনামে উঠে এলো ত্রিপুরা পুলিশের আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এবার অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় “এস কফ” সিরাপ পুলিশের হেফাজত থেকেই খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেলিয়ামুড়া থানার একাধিক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তেলিয়ামুড়া থানার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর সম্পা দাসকে। একইসঙ্গে গ্রেফতার হন থানার ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, সাব-ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র রিয়াং এবং থানার এসবি ইনচার্জ এএসআই শচীন্দ্র দেববর্মা।
সোমবার সকালে তেলিয়ামুড়া থানায় পৌঁছান ডিআইজি সঞ্জয় সাহা, এসবি ডিএসপি পান্না লাল সেন সহ নারকোটিক্স বিভাগের দুই ইন্সপেক্টর। গোটা ঘটনার তদন্তে নামে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ দল। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের খোয়াই এসপি অফিসে ক্লোজড করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন থানার সেকেন্ড অফিসার তথা ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, সাব-ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র রিয়াং এবং কনস্টেবল সুকান্ত দেব।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে গভীর রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসআই সম্পা দাসের নেতৃত্বে মহারাণীপুর এলাকায় মোবাইল ডিউটি চলছিল। সেই সময় নিয়মিত টহল ও তল্লাশির মাঝে পুলিশের নজরে আসে TR 01 BV 0637 নম্বরের একটি সন্দেহজনক ইকো গাড়ি, যা রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। পরে গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশের দাবি ছিল, গাড়ি থেকে ৬০০ বোতল “এস কফ” সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, গাড়িটিতে মোট ৬০০০ বোতল সিরাপ ছিল। অভিযোগ, পাচারকারীদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে মাত্র ১০০০ বোতল গাড়িতে রেখে বাকি ৫০০০ বোতল প্রেস স্টিকার লাগানো একটি ওয়াগনার গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর উদ্ধার হওয়া ১০০০ বোতলের মধ্যেও মাত্র ৬০০ বোতল দেখিয়ে বাকি ৪০০ বোতল, যার ব্যাচ নম্বর QEKSL 042 এবং QEKSL 046, খোলা বাজারে নেশাগ্রস্তদের কাছে প্রতিটি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।
স্থানীয় কয়েকজন নেশা ব্যবহারকারীর কাছ থেকেও এই অভিযোগের সমর্থনে তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে “এস কফ” সহ বিভিন্ন কফ সিরাপ রাজ্যের যুবসমাজ এবং পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে মাদক হিসেবে অপব্যবহারের অভিযোগে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত।
ঘটনার খবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছতেই তিনি গুরুত্ব সহকারে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলতেই শনিবার অভিযুক্তদের এসপি অফিসে ক্লোজড করা হয় এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে তেলিয়ামুড়া থানার ভূমিকা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক মাস আগেও তেলিয়ামুড়ার দুষ্কি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে কি পুলিশের একাংশ জড়িত?



