নেপালে আসছে ‘রোমিও-জুলিয়েট’ আইন
২৪ মে : কিশোর-কিশোরীদের পারস্পরিক সম্মতিতে যৌনসম্পর্ককে আর ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে না— এমনই এক যুগান্তকারী আইন আনতে চলেছে নেপাল সরকার। পাশাপাশি দেশটিতে আইনি বিয়ের বয়সও ২০ থেকে কমিয়ে ১৮ করার ভাবনা চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বর্তমানে নেপালের আইনে ১৮ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে যেকোনও ধরনের যৌনসম্পর্ককেই ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেখানে পারস্পরিক সম্মতির কোনও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ, সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, নাবালকদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক আইনের চোখে অপরাধ।
অন্যদিকে, নেপালে আইনি বিয়ের বয়স ২০ বছর হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছিল যুবসমাজ। তাঁদের দাবি ছিল, যদি ১৮ বা ১৯ বছর বয়সে যৌনসম্পর্কে আইনি সম্মতির বিষয়টি মানা হয়, তাহলে সেই বয়সে বিয়েতে বাধা কেন? অবশেষে সেই জটিলতার সমাধানের পথেই হাঁটছে নেপাল সরকার।
দেশটির সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘রোমিও-জুলিয়েট’ নামে একটি নতুন আইনি ধারা আনার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, যদি সম্পর্কে জড়িত দু’জনের বয়সই ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হয় এবং সম্পর্কটি পারস্পরিক সম্মতিতে হয়, তবে সেটিকে আর ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
ইতিমধ্যেই নেপালের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি টাস্ক ফোর্স সুপ্রিম কোর্ট ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধনী খসড়া তৈরি করেছে। বর্তমানে তা মন্ত্রিসভার পর্যালোচনায় রয়েছে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এই আইন কোনওভাবেই অবাধ শারীরিক সম্পর্কের ছাড় নয়। জোরপূর্বক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেল, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শোষণমূলক যৌনসম্পর্ককে আগের মতোই অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যদিও নতুন প্রজন্মের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, দেশের রক্ষণশীল মহল এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করছে। তাঁদের মতে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।



