ADC লাচিতকুমারের ঘর থেকে টাকার সঙ্গে উদ্ধার পিস্তলও, শ্যালকের ফ্ল্যাটে মিলল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৪ মে : দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ACS কর্মকর্তা লাচিত কুমার দাসকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। কুইন গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশির পর এবার হাউসফেডের ফ্ল্যাটে গভীর রাতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন শাখা। শুক্রবার রাত আড়াইটার পর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রথম তলার বি-১০৪ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় লাচিত দাসের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি .৩২ পিস্তল। পাশাপাশি একাধিক ব্যাঙ্ক পাসবুকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বেলতলার কুইন গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্টে লাচিতকুমার দাসের ফ্ল্যাটে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ।

দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে জানা গেছে, মোট ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি লোহার আলমারিতে ৪৪ লক্ষ টাকা এবং একটি ট্রাঙ্কে বাকি অর্থ রাখা ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন লাচিত দাসের শ্যালক প্রাঞ্জলপ্রতিম বরুয়া, যিনি স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত। মাসিক ২০ হাজার টাকায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, নগদ টাকাভর্তি আলমারিটি শ্যালকের ফ্ল্যাটে রাখা থাকলেও তার চাবি ছিল লাচিতকুমার দাসের কাছেই। লখিমপুর থেকে গুয়াহাটিতে বদলি হয়ে আসার সময় তিনি আলমারিটি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। পরে তালা ভেঙে নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও বহু জমিজমার নথি এবং একটি সোনার আংটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এদিকে, কুইন গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্টের সামনেই বেআইনি উপায়ে ২ কাঠা জমি কেনার অভিযোগ উঠেছে লাচিত দাসের বিরুদ্ধে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া রাহায় ১ বিঘা এবং হোজাইয়ে ৪ কাঠা জমির মালিক তিনি। গুয়াহাটিতেও রয়েছে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং আরও দু’টি জমি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, হোজাইয়ে ADC পদে কর্মরত থাকাকালীন বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল লাচিতকুমার দাসের বিরুদ্ধে। একাধিক ভুক্তভোগী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। লখিমপুর জেলার কমিশনার থাকাকালীনও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

১৯৯৯ সালে চাকরিতে যোগ দেন লাচিত কুমার দাস। অবসরের এখনও প্রায় ৯ বছর বাকি ছিল তাঁর। অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এক বছর আগে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। অধিকাংশ সম্পত্তিই তাঁর একমাত্র কন্যার নামে রয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। গ্রেফতারের পর শুক্রবার আদালতে তোলা হলে আদালত লাচিতকুমার দাসকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *