২৩ মে : আম আদমি পার্টিকে সরিয়ে দিল্লির মসনদ দখল করার পর থেকেই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি সরকার। ক্ষমতায় এসেই প্রথমে দিল্লিতে রোহিঙ্গাদের খোঁজে চিরুনিতল্লাশি, বসতি উচ্ছেদ এবং পুশব্যাকের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নতুন প্রশাসন। এবার খোলনলচে বদলে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর রেশন ব্যবস্থাকে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর সরকারের নির্দেশে দিল্লি জুড়ে রেশন ব্যবস্থার বড়সড় ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এই অভিযানের শুরুতেই এক ধাক্কায় বাতিল করে দেওয়া হলো ৭ লক্ষ ৭২ হাজারেরও বেশি অবৈধ রেশন কার্ড।
প্রশাসন সূত্রে খবর, দিল্লিতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নতুন রেশন কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। বিজেপি সরকার সেই প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নতুন কার্ড ইস্যু করার আগে দিল্লির পুরনো রেশন কার্ডগুলির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করায় সরকার। আর সেই অডিটের রিপোর্ট আসতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। দেখা যায়, লক্ষ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা এতদিন সরকারি রেশনের সুবিধা ভোগ করছিলেন। ৬,৪৬,১২৩ জন গ্রাহক সরকার নির্ধারিত আয়ের সীমার চেয়ে বেশি আয় হওয়া সত্ত্বেও বেআইনিভাবে রেশনের সুবিধা নিচ্ছিলেন। প্রায় ৯৫,০০০ গ্রাহক বিগত ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো রেশন তোলেননি। ৬,০০০-এর বেশি কার্ড মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা সত্ত্বেও এতদিন সক্রিয় ছিল এবং রেশন তোলা হচ্ছিল। এই সমস্ত জালিয়াতি রুখতেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে সাড়ে সাত লক্ষের বেশি কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার।
সাধারণত রেশন পরিষেবার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমা থাকে। সেই আয়ের ভিত্তিতেই ঠিক হয় কোন পরিবার কতটা খাদ্যশস্য পাবেন। দিল্লিতে অডিট চলাকালীন দেখা যায়, সাড়ে ৬ লক্ষের কাছাকাছি গ্রাহক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা টপকে বেআইনিভাবে সুবিধা নিচ্ছিলেন। তবে এই শুদ্ধিকরণের পাশাপাশি দিল্লির গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষদের জন্য একটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত।
এতদিন দিল্লিতে রেশন পাওয়ার জন্য বার্ষিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা ছিল ১.২ লক্ষ (১ লক্ষ ২০ হাজার) টাকা। অর্থাৎ, পরিবারের বার্ষিক আয় এর চেয়ে বেশি হলে রেশনের সুবিধা মিলত না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবার সেই আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ২.৫ লক্ষ (আড়াই লক্ষ) টাকা করা হয়েছে। এর ফলে দিল্লির আরও অনেক পরিবার সরকারি রেশনের আওতায় আসতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই অডিটের মূল উদ্দেশ্য ছিল রেশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা। যে সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি রেশন কার্ড বাতিল হয়েছে, সেই শূন্যস্থানগুলি এবার প্রকৃত দুঃস্থ ও যোগ্য উপভোক্তাদের দিয়ে পূরণ করা হবে। ফলে দীর্ঘ ১৩ বছরের খরা কাটিয়ে দিল্লির সাধারণ মানুষ আবার নতুন রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। সরকারের এই জোড়া পদক্ষেপে একদিকে যেমন দুর্নীতিতে লাগাম টানা গেল, তেমনই সাধারণ মানুষের রেশন পাওয়ার পথও অনেকটাই সহজ হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



