সংস্কার ভারতীর উদ্যোগে কলা সাধক সঙ্গম আয়োজন হাইলাকান্দিতে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২০ মে : সংস্কার ভারতী এর দক্ষিণ অসম প্রান্তের উদ্যোগে ষষ্ঠ কলা মহোৎসবকে কেন্দ্র করে একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণ অসম প্রান্তের চারটি জেলায় শাখাস্তরে ২৫টি স্থানে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। দক্ষিণ আসাম প্রান্তের সম্পাদক বিশ্বতোষ দেব জানান, দক্ষিণ অসম প্রান্তের ৪টি জেলা যথাক্রমে কাছাড়, শ্রীভূমি, হাইলাকান্দি ও ডিমা হাসাও জেলার মোট ২৫টি স্থানে প্রথম পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে জেলা ও সম জেলা  পর্যায়েও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

প্রতিযোগিতার বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে সৃজনশীল নৃত্য, লোকনৃত্য, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, তবলা বাদন, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। চিত্রাঙ্কনে বিভিন্ন বিভাগের জন্য নির্ধারিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে— মনের মতো ছবি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রাণীসহ প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং উৎসব বা কোনও মনীষীর মুখাবয়ব।

প্রতিযোগিতাগুলি বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। শাস্ত্রীয় সংগীত, সৃজনশীল নৃত্য ও তবলা বাদনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আলাদা বিভাগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত, তৃতীয় থেকে পঞ্চম, ষষ্ঠ থেকে সপ্তম এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, প্রতিটি বিষয়ে (একক ও সমবেত) অংশগ্রহণে প্রবেশ মূল্য  ধার্য করা হয়েছে।  প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী শাস্ত্রীয় সংগীত, সৃজনশীল নৃত্য ও চিত্রাঙ্কনে একক অংশগ্রহণ হবে, আর লোকনৃত্য, তবলা ও দেশাত্মবোধক সংগীতে সমবেত পরিবেশনা করা যাবে।

এছাড়াও লোকনৃত্য ও দেশাত্মবোধক সংগীতে ন্যূনতম ৫ জন শিল্পীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশাত্মবোধক গানে কোনো ইলেকট্রনিক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

এদিকে, মহোৎসবকে সফলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত পরিচালনা সমিতি ও একাধিক উপসমিতিও গঠন করা হয়েছে। পরিচালনা সমিতির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন গোপালচন্দ্র রাজকুমার, কার্যকরী সভাপতি নীলোৎপল চক্রবর্তী এবং সাধারণ সম্পাদক বিশ্বতোষ দেব। এছাড়াও সহ-সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সদস্যদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মহোৎসব উপলক্ষে প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতা, অর্থ, কর্মশালা, ভোজন, যাতায়াত, প্রচার, স্মরণিকা, সম্মাননা ও অভ্যর্থনা সহ বিভিন্ন উপসমিতিও গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপসমিতিগুলিতে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠকদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে।

এদিকে,বুধবার হাইলাকান্দিতে শাখা স্তরে চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৭ মে বাকি প্রতিযোগিতা গুলো অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান জেলা সভাপতি পিনাকপাণি ভট্টাচার্য ও সম্পাদক ড. অভিজিৎ মিত্র। এদিন হাইলাকান্দি শহরের গুরুস্থানম স্কুলে আয়োজিত ও প্রথম পর্বের প্রতিযোগিতা পরিচালনায় সহযোগিতা করে গুরুস্থানম কতৃপক্ষের পক্ষে দীপ্তিময় পাল।

এছাড়াও উৎসব কমিটির প্রচার উপসমিতির সভাপতি শংকর চৌধুরী, হাইলাকান্দি শাখার নৃত্য প্রমুখ মিতালি চক্রবর্তী, বিশ্বরূপ শর্মা, রাজজ্যোতি চৌধুরী, প্রাঞ্জল ভট্টাচার্য প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *