সীমান্ত সড়কের বেহাল দশা, আতঙ্কে যাত্রী ও চালক, কৃষ্ণেন্দু পালের হস্তক্ষেপ দাবি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ মে : বরাক উপত্যকা, মিজোরাম ও ত্রিপুরার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত লোয়াইরপোয়া-ভায়া কটামনি-কানমুন আন্তঃরাজ্য সড়কের সীমান্তবর্তী কালামাটি-মেদলি অংশ বর্তমানে চরম বেহাল অবস্থার শিকার। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও সেই গর্ত এখন কার্যত পুকুরে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, রোগী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দীর্ঘ উদাসীনতার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মিজোরাম সীমান্তবর্তী খাসিয়া পুঞ্জি এলাকা থেকে মেদলিছড়া আরসিসি সেতু পর্যন্ত রাস্তার অধিকাংশ অংশ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার উপর জমে থাকা পানির নিচে কত বড় গর্ত রয়েছে তা বুঝতে না পেরে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়ছেন চালকরা। রাতের অন্ধকারে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।

এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন বরাক, মিজোরাম ও ত্রিপুরার মধ্যে চলাচল করে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত অসম পুলিশের ব্যাটেলিয়ান ক্যাম্পগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি গাড়ি গর্তে আটকে গেলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, শুধুমাত্র গর্ত ভরাট করে সাময়িক সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন আধুনিক ও টেকসই পরিকল্পনায় সম্পূর্ণ নতুনভাবে সড়ক নির্মাণ। তারা পাথারকান্দির বিধায়ক তথা প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, ২০১৬ সালে কৃষ্ণেন্দু পাল এই সড়কের সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাই ফের তাঁর উদ্যোগেই সীমান্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশাবাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *