নিট বাতিল, ভুগছিলেন অবসাদে, আরও এক পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

Spread the news

১৬ মে : নিট পরীক্ষা বাতিলের পর থেকে একের পর এক পড়ুয়ার মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের এক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। এবার রাজস্থানেও একই ঘটনা। চলতি বছর ৩ মে নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন প্রদীপ। ভাল নম্বরের আশাও করেছিলেন। বেশ আনন্দেই ছিলেন। কিন্তু, পরীক্ষা বাতিল হতেই ছবিটা হঠাৎ বদলে গেল। টেনশন, অসুস্থতা, তারপরই ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় প্রদীপের। পরিবারের দাবি, নিট বাতিল হওয়ার পর থেকেই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন প্রদীপ। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তারপরই হয়তো এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মৃতের নাম প্রদীপ মেঘওয়াল। রাজস্থানের কনিকা কি ধানি গ্রামের ঝুনঝুনুর গুধা গাউদজি এলাকার বাসিন্দা। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গত তিন বছর ধরে সিকরে ভাড়া থাকতেন। প্রদীপ একটি বেসরকারি কোচিং ইনস্টিটিউটে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তাঁর দিদি ও বোনও। তাঁরাও নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে সিকরের ভাড়া বাড়িতেই ঘটনাটি ঘটে। সেইসময় ছোট বোন কোচিং ক্লাসে ছিলেন। আর দিদি বাথরুমে ছিলেন। তিনি বাথরুম থেকে বেরিয়েই সিলিং ফ্যান ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রদীপকে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়িওয়ালা ও পুলিশকে খবর দেন তিনি। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পৌঁছয় পরিবারের সদস্যরাও। দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে এসকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রদীপের বাবা রাজেশ কুমার মেঘওয়াল পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে NEET পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের আশা করেছিলেন। বাড়িতে এসে জানিয়েছিলেন প্রবেশিকা পরীক্ষায় ৭২০-র মধ্যে অন্তত ৬৫০ নম্বর সে পাবেই। তাঁর পরিবারের দাবি, এ বছর মেডিকেলে আসন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রদীপের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজস্থানের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছিল নিয়ামক সংস্থা NTA। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী। তবে, নতুন করে আবার পরীক্ষার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ জুন হবে পরীক্ষা। অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *