১২ মে : একদিকে যখন কেন্দ্রের মোদি সরকার ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগানে নারীশিক্ষার জয়গান গাইছে, ঠিক তখনই উলটো সুর শোনা গেল এনডিএ শাসিত বিহারের এক হেভিওয়েট মন্ত্রীর (Bihar Minister education row) গলায়। “মেয়েদের পড়াশোনার কোনও প্রয়োজন নেই”— নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির (Mithilesh Tiwari) এই একটি মন্তব্যেই এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। একজন রাজনীতিকের মুখে এমন মধ্যযুগীয় মানসিকতার বহিঃপ্রকাশে স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল।
গোপালগঞ্জের বৈকুণ্ঠপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মেয়েদের ঘরের বাইরে বেরোনোর প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, পরিবারের দেখভাল করাই নারীদের প্রধান কাজ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত লেখাপড়া করে কী হবে? আমাদের ঘরের মেয়েরা আমাদের শক্তি, তাঁদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন বা প্রতিবাদ করার দরকার নেই।” এমনকি নারী অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দায়সারা ভাবে জানান যে, অধিকার এমনিই পাওয়া যাবে।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়। রাজনীতিতে আসার আগে মিথিলেশ তিওয়ারি নিজে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) পাস করা একজন শিক্ষক ছিলেন। পাটনায় (Patna) দীর্ঘদিন নামী কোচিং সেন্টার চালিয়েছেন তিনি। একজন শিক্ষাবিদ হয়ে কীভাবে তিনি নারীশিক্ষার বিরোধিতা করলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। নেটিজেনরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভারতীয় সংবিধানের ২১এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার, সেখানে লিঙ্গভেদের কোনও স্থান নেই।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই আসরে নেমেছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনি এমন কোনও মন্তব্যই করেননি। মিথিলেশ তিওয়ারির অভিযোগ, যুব কংগ্রেস তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে বিরোধীরা ছাড়তে নারাজ। প্রধানমন্ত্রী যেখানে নারীশক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন, সেখানে তাঁরই জোট সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর এই অবস্থান বিজেপি তথা এনডিএ-কে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



