বরাক তরঙ্গ, ১১ মে : কাটিগড়া হোলি ফ্লাওয়ার সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের কেজি-১ শ্রেণির ছাত্র সাকিবুলের অকাল প্রয়াণে সোমবার শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সোনাই বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর। সোমবার তিনি নিজে মৃত শিশুর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সোনাই ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি নাসিম আহমদ লস্কর, টিপু মজুমদার, আবেদ বড়ভূইয়া, কাটিগড়া কংগ্রেসের কর্মকর্তা তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সভাপতি মনসুর আহমদ, ব্লক কংগ্রেসের কর্মকর্তা তৈয়বুর রহমান চৌধুরী, আব্দুল মতিন সহ অন্যান্যরা।
ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাকিবুলের বাবা হারিস উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যরা। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এছাড়াও, অসুস্থ হয়ে পড়া সাকিবুলের মায়ের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বিধায়ক। প্রয়োজনে শিলচরের যে কোনও নার্সিংহোমে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। বিধায়কের এই মানবিক উদ্যোগে কিছুটা হলেও ভরসা ফিরে পায় পরিবারটি।

পরে তিনি পৌঁছে যান হোলি ফ্লাওয়ার সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল-এ। সেখানে স্কুল পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা মৃদুল নাগ, মিহিরকান্তি নাগ, হরিপদ দেব সহ অন্যান্যদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের প্রিন্সিপাল সুম্পি দাসকেও সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা মৃদুল নাগ।
একটি নিষ্পাপ শিশুর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় আজও ভারী কাটিগড়ার পরিবেশ। সাকিবুলের মৃত্যু ঘিরে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। একইসঙ্গে উঠছে একটাই প্রশ্ন—অবহেলার বলি হয়ে আর কত নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে যাবে?



