দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ১০ মে : অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ধলাইয়ের নর্থ হাওয়াইথাং এলাকার যুব সমাজ। কাছাড় ক্যানসার হাসপাতালের উদ্যোগে এবং নর্থ হাওয়াইথাং মইনুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় রবিবার আয়োজিত এক রক্তদান শিবিরে ১৬ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
নর্থ হাওয়াইথাং এমই স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই শিবির সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দিনভর চলে। রক্তদান শিবিরকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিশিষ্টজন, সমাজকর্মী, শিক্ষক ও যুবকদের উপস্থিতিতে শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। রক্তদাতাদের উৎসাহ জোগাতে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষাবিদ জিয়া উদ্দিন লস্কর বলেন, “রক্তদান মানেই জীবনদান। একজন মানুষের দেওয়া এক ইউনিট রক্ত অন্য একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে। বর্তমানে বহু রোগী রক্তের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। তাই সমাজের প্রতিটি সুস্থ মানুষের নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসা উচিত।” তিনি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মইনুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল ক্লাবের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
ক্লাবের সভাপতি রাজীব আহমদ লস্কর বলেন, “বর্তমানে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত বহু মানুষ জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় রক্তের অভাবে সমস্যায় পড়েন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।” তিনি জানান, ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে সমাজসেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ভাগাবাজার জিপির আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্যার প্রতিনিধি সাবির আহমেদ লস্কর, গ্রুপ সদস্য হোসেন আহমেদ, আবুল হোসেন বড়ভূঁইয়া, ক্লাব সম্পাদক কামরুজ্জামান লস্কর, ক্রীড়া সম্পাদক সাহিদ আহমেদ বড়ভূঁইয়া সহ অনেকে।
শিবির শুরুর আগে কাছাড় ক্যানসার হাসপাতাল ও রিচার্জ সেন্টারের কর্মকর্তারা রক্তদানের উপকারিতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন। তারা জানান, নিয়মিত রক্তদান শরীর সুস্থ রাখতে সহায়ক এবং এটি মানবসেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। শিবির সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে নর্থ হাওয়াইথাং ময়ীনুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল ক্লাবের সভাপতির হাতে একটি শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



