বরাক তরঙ্গ, ৯ মে : নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বরাকজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী পালন করা হল।

গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও পারফর্মিং আর্টস বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সকাল এগারোটায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর নিরঞ্জন রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অপরাপর অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অব আর্টস প্রফেসর আসরফ হোসেইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অব স্টুডেন্টস এফেয়ার্স ড. জয়দীপ পাল ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. অনামিকা চক্রবর্তী প্রমুখ।
এদিন অতিথিদের সমবেত প্রদীপ প্রজ্বলন ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা ড. পৌলমী চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. অনামিকা চক্রবর্তী। প্রফেসর নিরঞ্জন রায় তাঁর সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্র শিক্ষা দর্শনের গভীরে সঞ্চরণশীল বিষয়গুলোর প্রতিফলন বর্তমান নব্য শিক্ষাব্যবস্থায় গৃহীত হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রফেসর আসরফ হোসেইন কবিগুরুর সাহিত্য সৃষ্টির বহুমাত্রিক প্রতিভার কথা তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউ এসির সহযোগী ডিরেক্টর অংক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী বিশ্বেশ্বর দেব, স্নেহাশিস দাস, শুভজিৎ সিংহ, শর্মিষ্ঠা নাথ, সৃজনী দেব, স্নেহা ছেত্রী, বৈশালী কর, পুষ্পা পাল, সুপ্রভা দেবনাথ রবীন্দ্রসঙ্গীত, রবীন্দ্র নৃত্য ও রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে। সবশেষে সমবেত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। এই অনুষ্ঠানে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অধ্যাপক অধ্যাপিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিনের অনুষ্ঠান সার্বিক ভাবে পরিচালনা করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. উত্তম পালুয়া।

কাটিগড়া : কাছাড়ের কাটিগড়ায় শনিবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাটিগড়া আঞ্চলিক সমিতির উদ্যোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও সংগঠন মিলে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর গান, নৃত্য, আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। ছাত্রছাত্রীরা কবিগুরুর জয়ন্তী নৃত্য-সঙ্গীতের মাধ্যমে উদযাপন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে।বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান এখনও চলমান রয়েছে। স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরা বলছেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান বঙ্গ সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ জাগায়।

হলি ক্রাউন স্কুল : তারাপুর ও মাছিমপুর কুমারপাড়াস্থিত হলি ক্রাউন স্কুলের দুইটি শাখায় শনিবার সারাদিন নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ১৬৫তম রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। উদযাপনের শুরু হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে। স্কুলের অধ্যক্ষা জবা চন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষা জবা চন্দ।

সাই বিকাশ বিদ্যানিকেতন : সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৬৫তম রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধান শিক্ষক আরিবুক্কারাসু পান্ডিয়ান। তাঁর বক্তব্যে বলা হলো, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শনের মূল লক্ষ্য সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা। এতে প্রত্যেকে সৃজনশীল ক্ষমতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ অর্জন করতে পারে। এর জন্য শিক্ষাবিদদের সৃজনশীল শিক্ষণপদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। এই অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম উপস্থাপন করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছে।

সরস্বতী বিদ্যানিকেতন : কবিতা, গান, নাচ এবং কথার মেলবন্ধনে কবিগুরুর ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী পালন করা হলো সরস্বতী বিদ্যানিকেতন, দক্ষিণ শিলচরে। শনিবার সকাল দশটায় বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপন করা হয়। এতে বিশেষ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিলচর কাছাড় কলেজের অর্থনৈতিক বিভাগের অধ্যাপিকা পারমিতা দাস। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য্যা সঙ্গীতা রায় চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্বাগতা রায় চৌধুরী, সরস্বতী বিদ্যানিকেতন দক্ষিণ শিলচরের বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির মার্গদর্শক নিরোদ চন্দ্র কর্মকার, সভাপতি সুষীমচন্দ্র নাথ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা পরিচালন সমিতির সদস্য অপূর্বকুমার নাথ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের আচার্য্যা, আচার্য সহ অভিভাবক ও বিদ্যার্থীরা। এদিন পরম্পরাগত বন্দনা পরিবেশনের পর ভারতমাতা, ওঙ্কার, দেবী সরস্বতী এবং কবিগুরুর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের পর মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বিশিষ্টজনেদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান আচার্য্যা শ্রীমতি সঙ্গীতা রায় চৌধুরী।
মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের বিদ্যার্থীদের ‘হে নতুন দেখা দিক’ গান পরিবেশনের পর বিদ্যালয়ের অঙ্কুর, মুকুল এবং কিশলয় শ্রেণীর কচিকাঁচাদের ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে’ নৃত্যে অনুষ্ঠানকে মনরঞ্জিত করে তোলে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. পারমিতা দাসের ‘বহে নিরন্তর এবং ‘আমার হিয়ার মাঝে’ গানে উপস্থিত সকলে মুগ্ধ হোন।
এদিকে, যন্ত্রসঙ্গীতে থাকা সঙ্গীত শিল্পী দিবাকর দাসের ‘মোর বীণা’ এবং ‘আকাশ ভরা’ গানে কণ্ঠ মেলান বিদ্যালয়ের সঙ্গীত আচার্য্যা শ্রীমতি জয়ন্তী চৌধুরী সহ উপস্থিত দর্শকরা। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আচার্য্যা ফাল্গুনী পাল। এদিন কবিগুরুর লেখা তথা ভারতবর্ষের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বন্ধু সংস্থা : বন্ধু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার উদ্যোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে ২৫শে বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠান কার্যকর হয়। এটি সংস্থার পঞ্চম বৈশাখী উদযাপন। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয়। বিশ্বতোষ চৌধুরী, ড. সূর্যসেন দেব, ভাস্কর দাস, জয়দীপ চক্রবর্তী, অভিজিৎ নাথ, প্রসেনজিৎ পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংস্থার সদস্যরা সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন। বিপ্লব দেব অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। শতাধিক শিশু-কিশোর নৃত্য, রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবৃত্তি ও চিত্রকলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য প্রশংসাপত্র ও সান্ত্বনা পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিলচরের প্রায় ৩০টি এনজিওকে সামাজিক কার্যক্রমের জন্য স্মারক এবং সাংস্কৃতিক শিল্পীদের মধ্যে বিশেষ করে বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী রঞ্জিতা সিনহাকে—সম্মানিত করা হয়। পুষ্পাংগদ সংগীত কলাকেন্দ্র বাদ্যযন্ত্রের সহযোগিতা প্রদান করে।সংস্থার সভাপতি প্রসেনজিৎ পাল জানান, অভিভাবক ও সকলের সহযোগিতায় অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এআইডিএসও : যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ শিলচরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হলো। এই উপলক্ষে ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও, মহিলা সংগঠন এআইএমএসএস, যুব সংগঠন এআইডিওয়াইও এবং কিশোর-কিশোরী সংগঠন কমসোমল-এর পক্ষ থেকে এক যৌথ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন সকালে শিলচরের তারাপুরস্থিত কবিগুরুর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মাল্যদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এআইডিএসও-র কাছাড় জেলা সভাপতি স্বাগতা ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি পল্লব ভট্টাচার্য ও আপন লাল দাস এবং জেলা সম্পাদক স্বপন চৌধুরী। এছাড়াও এআইডিওয়াইও-র পক্ষে কার্তিক সাহা এবং এআইএমএসএস-এর পক্ষে খাদেজা বেগম লস্কর ও রিম্পি বাগতী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পূর্বে এআইডিএসও-র উদ্যোগে উকিলপট্টিস্থিত জেলা কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুর্তির পাদদেশে পৌছায়। পাশাপাশি, এআইডিএসও-র বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বর্তমান সময়ে রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার আহ্বান জানান।



