‘ব্যর্থতার দায়ভার সম্পূর্ণ আমার’ বললেন সুব্রত ভট্টাচার্য

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ মে : সদ্য সমাপ্ত আসাম বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পন্নারের কাছে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। ফলাফল ঘোষণার পর আজ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ, আবেগঘন ও আত্মসমালোচনামূলক পোস্টে নিজের পরাজয়ের সম্পূর্ণ দায়ভার নিজ কাঁধে তুলে নেন নিজে প্রার্থী সুব্রত ভট্টাচার্য পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন ছিল একটি অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেখানে স্থানীয় সামাজিক ও নির্বাচনী সমীকরণ ছিল অত্যন্ত জটিল। তার ভাষায়, ভোটের অঙ্ক ও পরিস্থিতিগত বাস্তবতায় লড়াই কঠিন হলেও তিনি ও তাঁর দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন।তবে এই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও তিনি প্রায় ৯৬,৫০০ ভোট অর্জন করেন, যা তিনি সম্পূর্ণভাবে জনগণ, দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের অবদান বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এই ভোট প্রাপ্তির কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্ব আমার নেই, এটি সম্পূর্ণভাবে আপনাদের সকলের পরিশ্রম ও ভালোবাসার ফল। নিজের আবেগঘন বার্তায় তিনি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বুথ স্তরের কর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান  আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া মন্ত্রী পীযুষ হাজারিকা, জয়ন্তমল্ল বড়ুয়া, কৃষ্ণেন্দু পাল  কৌশিক রাই এবং বিধায়ক বিজয় মালাকার

বিধায়ক কমলাক্ষদে পুরকায়স্থ, জেলা বিজেপি সভাপতি সঞ্জীব বণিক, পুরপতি  রবীন্দ্রচন্দ্র দেব, অনুসূচিত উন্নয়ন বোর্ডের সভাপতি কৃষ্ণ দাদ, প্রাক্তন পুরপতি ডাঃ মানস দাস, অঞ্জনা রায় সুধাংশু দাস জেলা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন অধ্যক্ষ দেবব্রত সাহা ,এই নির্বাচনে প্রবাসী বিস্তারক হিসেবে আসা  মুকেশ সুরিয়া, বিধানসভা প্রভারী শিপ্রা গুণ, বিধানসভা আহ্বায়ক বিপ্লব দেব, প্রদেশ বিজেপি সদস্য  অমরেশ রায়, সুদীপ চক্রবর্তী, শিবব্রত সাহা সহ আমাদের মণ্ডল সভানেত্রী ছন্দা রায় সিংহ, সুভদ্রা দাস উৎপল ঘোষ, অশোক দাস, প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি পাপলু দেব, রূপনকুমার পাল বনোজ চক্রবর্তী,শ্রীমতি শান্তা চৌধুরী, জেলা পরিষদ সভাপতি অনিল ত্রিপাঠী, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সভাপতি  আশিস নাথ, জেলা পরিষদ সহ-সভানেত্রী সাথী রায় কুড়ি, জেলা পরিষদ সদস্যা মতি অর্চনা সরকার দত্ত সহ আমাদের জেলা বিজেপি’র এবং এই বিধানসভার অন্তর্গত মণ্ডলস্তরের কার্যকর্তা গণ, বিভিন্ন মোর্চার জেলা এবং মণ্ডল কার্যকর্তা গণ, পুর কমিশনার গণ, পঞ্চায়েত সভাপতি গণ, আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্য গণ, আমাদের বুথ সভাপতি গণ সহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে।

এছাড়া তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা, সাংসদ, জেলা নেতৃত্ব, পুরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য, বিভিন্ন মোর্চার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ, মণ্ডল সভাপতি-সভানেত্রী, জেলা পরিষদ সদস্যসহ অসংখ্য কর্মীর প্রতি।তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমে কাজ করা প্রতিটি বুথ সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং সাধারণ কর্মীর অবদানকে তিনি কখনো ভুলবেন না। এই পরাজয়ের ব্যর্থতার দায় তার নিজের উপর নিয়ে  আত্মসমালোচনায় প্রার্থী সুব্রত ভট্টাচার্য বাবুর পোস্টে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তার করা পোস্টে আত্মসমালোচনামূলক অবস্থান। তিনি স্পষ্টভাবে লেখেন, নির্বাচনী ফলাফলের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করছেন। তার ভাষায় এই ব্যর্থতার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আমার। প্রার্থী হিসেবে আমি আমার দায়িত্বে সফল হতে পারিনি। তবে একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে ভবিষ্যতে তিনি জনসেবায় সক্রিয় থাকবেন এবং মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। নির্বাচনী ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উত্তর করিমগঞ্জ কেন্দ্রটি বরাক উপত্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা এলাকা হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে সামাজিক ও ভোটার বিন্যাস দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে জটিল করে তুলেছে। পরাজিত প্রার্থী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, স্থানীয় জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক সমীকরণ নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করেছে, যা ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে বলে তাঁর ধারণা।

এদিকে, জেলার  রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া তার এই আবেগঘন ও দায়িত্বস্বীকারমূলক পোস্ট ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে  আত্মসমালোচনামূলক রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে দলের প্রতি তার আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।

প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য নির্বাচনী রাজনীতিতে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক হলেও, উত্তর করিমগঞ্জের এই ঘটনা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে একজন প্রার্থী প্রকাশ্যে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে দল, কর্মী ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রাজনীতির ময়দানে জয় পরাজয় থাকলেও, সুব্রত ভট্টাচার্য-র এই ধরনের আত্মসমালোচনামূলক ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ বার্তা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *