ইতিহাসের ছন্দে ২৬ বছরের ফেরা: দক্ষিণ করিমগঞ্জে এক পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের গৌরবময় উত্থান

Spread the news

।। এসএম জাহির আব্বাস ।।
(সাংবাদিক, শ্রীভূমি)
৮ মে : দক্ষিণ করিমগঞ্জে যেন আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল। দীর্ঘ ২৬ বছরের ব্যবধানে একই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্থান নতুন করে আলোচনায় এনেছে সমগ্র অঞ্চলকে। পিতা থেকে পুত্র, পুত্র থেকে পৌত্র—এভাবেই এক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ে দক্ষিণ করিমগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হলেন আমিনুর রশিদ চৌধুরী।

অসম বিধানসভার সূচনালগ্নে উত্তর করিমগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ চৌধুরী। তাঁর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনসেবামূলক কাজ সেই সময়ে দক্ষিণ করিমগঞ্জের রাজনীতিকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিল।

এর ঠিক ২৬ বছর পর তাঁর পুত্র আব্দুল মুক্তাধীর চৌধুরী রাজনৈতিক ময়দানে পিতার উত্তরাধিকার বহন করেন। ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি টানা চারবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং দুইবার মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও পালন করেন। উন্নয়নমূলক কাজ, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য তিনি আজও দক্ষিণ করিমগঞ্জের মানুষের কাছে স্মরণীয়।

সময়ের আবর্তনে আবারও ২৬ বছর পর সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আব্দুল মুক্তাধীর চৌধুরীর পুত্র আমিনুর রশিদ চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে অগপ প্রার্থী ইকবাল হোসেনকে পরাজিত করে দক্ষিণ করিমগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন। তাঁর এই জয়ের মাধ্যমে একদিকে যেমন পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য অটুট রইল, তেমনি দক্ষিণ করিমগঞ্জের রাজনীতিতেও সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা, তিনবারের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদের রাজনৈতিক অধ্যায়েও এই নির্বাচনের ফল এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। পুত্রের জয়ে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ৯৪ বছর বয়সী প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাধীর চৌধুরী। তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তাঁর পুত্র জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে দক্ষিণ করিমগঞ্জের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রের সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

অন্যদিকে নবনির্বাচিত বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই জয় শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দক্ষিণ করিমগঞ্জবাসীর বিশ্বাস ও আশীর্বাদের প্রতিফলন। তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার অঙ্গীকার করে জানান, এলাকার জীর্ণ রাস্তা-ঘাট সংস্কার, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

দক্ষিণ করিমগঞ্জে এক পরিবারের এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক যাত্রা আজ শুধু ইতিহাস নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্যও এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *