মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ এপ্রিল : টানা ভারী বর্ষণে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লোয়াইরপোয়া ব্লকের সলগই বাজার এলাকা। অবিরাম বৃষ্টিপাতের জেরে সলগই বাজারস্থিত হাতাইছড়া ব্রিজের পাশের সাইড ওয়াল ধসে পড়ে, ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অসম-ত্রিপুরা জাতীয় সড়ক ৮-এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে।
প্রবল স্রোতে পাশের ছড়ার পানিতে ব্রিজের সাইড ওয়াল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের একাংশ ভেঙে নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন—পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও জরুরি পরিষেবার গাড়ি—এই পথ ব্যবহার করায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই ব্রিজ সংলগ্ন অংশে মাটি ধসে পড়ে। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে বাসিন্দারা বাইরে এসে দেখেন, ব্রিজের একাংশ ভেঙে ছড়ার জলে তলিয়ে গেছে। রাতারাতি এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ব্রিজের এক পাশের সাইড ওয়াল সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বড় অংশ ধসে পড়েছে। জাতীয় সড়কের একটি অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে, যা যে কোনো সময় আরও ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষত ভারী যান চলাচল অব্যাহত থাকলে বিপদের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই অংশে মাটির ভিত আলগা হয়ে ফাটল দেখা দিয়েছিল। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই বিপর্যয় এড়ানো যেত বলেই মত স্থানীয়দের।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি ছিল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হয়ে মাটির ভিত নরম করে দেয়, যার ফলেই এই ভয়াবহ ভূমিধস।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—ধস আরও বাড়লে অসম-ত্রিপুরা সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে পরিবহন, চিকিৎসা পরিষেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব পড়বে। এলাকাবাসীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে কাজ করা ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, কেবল অস্থায়ী মেরামত নয়—বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী সমাধান জরুরি। সলগই বাজারের এই ভূমিধস শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনার পূর্বাভাস নয়, বরং অবহেলা ও দুর্বল পরিকাঠামোর নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা তৎপর হয়।



