অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ এপ্রিল : পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার কুর্তাছড়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ ভুমিজের বসতঘর হঠাৎ আগুনে গ্রাস হয়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় ঘরের আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, জামাকাপড়, খাদ্যসামগ্রীসহ জীবনের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শিখার তীব্রতায় অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা ঘরটি পুড়ে যায়। তবে প্রতিবেশীদের তৎপরতায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

এই ঘটনায় গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোক ও উদ্বেগের ছায়া। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন দিলীপ ভুমিজ ও তাঁর পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাথারকান্দির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। বর্তমানে নির্বাচনী কাজে কলকাতায় অবস্থান করায় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে না পারলেও খবর পাওয়া মাত্রই দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সহায়তার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, “বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব। এই ঘটনার কথা শুনে আমি মর্মাহত। ব্যক্তিগত ও সরকারি—দুই স্তরেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।”

বিধায়কের নির্দেশে তাঁর প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কলকলিঘাট জিপির সভাপতি কল্প দেব, প্রতিনিধি সন্তোষ কানু, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রতিনিধিরা পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান। একইসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দারাও মানবিকতার নজির গড়ে একযোগে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। দিলীপ ভুমিজ ও তাঁর পরিবার মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের এই সহানুভূতিশীল উদ্যোগ ও দ্রুত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কথায়, “সবকিছু হারিয়ে আমরা যখন অসহায় হয়ে পড়েছিলাম, তখন এই সহায়তা আমাদের নতুন করে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে।”

এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড যেমন এক পরিবারের জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তেমনি বিপদের সময়ে মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *