অসমে বিভাজনের চক্রান্ত রুখতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান এসইউসিআই-র

Spread the news

দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যভিত্তিক সমাবেশে গুয়াহাটিতে______

বরাক তরঙ্গ, ২৬ এপ্রিল : অসমের জনগণকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হতে হবে। অসমের মানুষকে “শত্রু” হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। রবিবার গুয়াহাটি জেলা গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের ৭৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যভিত্তিক সমাবেশে এই আহ্বান জানান পলিটব্যুরো সদস্য তথা জননেতা অসিত ভট্টাচার্য। অসম রাজ্য কমিটির সম্পাদক চন্দ্রলেখা দাসের সভাপতিত্ব সমাবেশে তিনি বলেন, অসমিয়া, বাঙালি ও বিভিন্ন জনজাতির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাঁর কথায়, ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই পারে বিভাজনের রাজনীতিকে প্রতিহত করতে।

অসমের অতীতের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় এসইউসিআই দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একইভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে তিনি দেশ-বিদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অতি প্রাঞ্জল ভাষায় বিশ্লেষণ করেন। তিনি আর্থ-সামাজিক দিক তুলে ধরে বলেন, শ্রমিক বাজারে পরিণত হয়েছে বিশ্ব। কাজ নেই, শ্রমিকরা কাজের খোঁজে বাজারের পণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিপ্লবী শক্তির অভাবে বিভিন্ন দেশে পুঁজিপতিরা ভোটের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসছে। তবে দেশগুলোতে জনগণের অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রতিদিন দাবি আদায়ের আন্দোলন জোরদার করা, সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নেতা ও কর্মীদের।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। এও বলেন, সঠিক বিপ্লবী তত্ত্ব ও আদর্শের ভিত্তিতে দলীয় নেতা ও কর্মীদের পরিবর্তন আবশ্যক। আর সেটাই হচ্ছে মার্কসবাদী দর্শন। এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্য কান্তিময় দেব ও সম্পাদক চন্দ্রলেখা দাস।

সমাবেশের শুরুতে তিনটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবগুলো পেশ ও সমর্থনে বক্তব্য রাখেন বক্তরা।
দেশের সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে প্রস্তাব পাঠ করেন চিত্রলেখা দাস ও সমর্থনে বক্তব্য রাখেন জিতেন্দ্র চালিহা।
বাঙালি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অমানবিক উচ্ছেদ সহ বহু কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রস্তাব পাঠ করেন প্রজ্বল দেব। সমর্থনে বক্তব্য রাখেন স্বর্ণলতা চালিহা।
মূল্যবৃদ্ধি ও বেকার সমস্যা নিয়ে প্রস্তাব পেশ করেন অজয় আচার্য এবং সমর্থনে বক্তব্য রাখেন বিজিতকুমার সিনহা।
মঞ্চে ছিলেন কান্তিময় দেব, সুরজ্জামান মণ্ডল, আজহার হোসেন, তুষারকান্তি পুরকায়স্থ, অজিত আচার্য, আব্দুস সবুর ও আব্দুল হামিদ। উল্লেখ্য, ২৪ এপ্রিল ছিল প্রতিষ্ঠা দিবস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *