১০ এপ্রিল : একদিকে যখন ইসলামবাদে বৈঠকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি (Islamabad Peace Talks) ফেরানোর চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের এক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজল কূটনৈতিক মহলে। ইজরায়েলকে ‘ক্যানসার’ এবং ‘অভিশাপ’ বলে আক্রমণ করার পর খাজা আসিফ যদিও তাঁর পোস্টটি মুছে দিয়েছেন, কিন্তু তাতে বরফ গলেনি। বরং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ইজরায়েল।
ঘটনার সূত্রপাত খাজা আসিফের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, গাজা ও ইরানের পর এবার লেবাননেও গণহত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল। তিনি আরও লেখেন, “ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যারা এই ক্যানসারাস রাষ্ট্র তৈরি করেছে, তারা যেন নরকের আগুনে পোড়ে।” শান্তি বৈঠকের আয়োজক দেশের একজন শীর্ষ মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তীব্র সমালোচনার মুখে আসিফ পোস্টটি মুছে দিলেও ইজরায়েলের নজর এড়াতে পারেননি।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে আসিফের মন্তব্যকে ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তেল আবিবের দাবি, যে দেশ নিজেকে শান্তির দূত বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করে, তাদের মুখে এমন ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ ভাষা মানায় না। ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রী গিদিওন সার বলেন, “ইজরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করার ডাক দেওয়া এই ধরণের রাষ্ট্র কখনওই নিরপেক্ষ বিচারক হতে পারে না।”
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম যখন পাকিস্তানের কাছে ইজরায়েলি হামলা বন্ধে সাহায্য চাইছেন, ঠিক তখনই খাজা আসিফের এই মন্তব্য ইসলামাবাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিল। আজকের বৈঠক থেকে কোনও সমাধান সূত্র বের হয় নাকি উত্তেজনা আরও বাড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।
এই কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে ফাটল ধরেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে আক্রমণ করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে তেহরান। ট্রাম্পের কথায়, “ইরান খুবই খারাপ কাজ করছে। আমাদের মধ্যে এমন কোনও চুক্তি হয়নি যে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকবে।”
তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র ৬টি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন অন্তত ১৪০টি জাহাজ যাতায়াত করে। বিশ্বের তেলের চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে আসে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



