দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৪ এপ্রিল : আসন্ন নির্বাচনের আবহে শিলচর জেলা কংগ্রেস কমিটি (ডিসিসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক বৈঠক থেকে বরাক উপত্যকার মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেন অল ইন্ডিয়া মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী আলকা লাম্বা। তিনি জানান, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বরাকের উন্নয়ন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকট নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে লাম্বা অভিযোগ করেন, শাসক দল ভুয়া প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতি করছে। তাঁর দাবি, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং মানুষের আস্থা নষ্ট করা হচ্ছে। ‘মিয়া’ শব্দের অপব্যবহার ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর করা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অভিবাসন ইস্যুতে পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বিজেপিকে নিশানা করেন কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, ইউপিএ আমলে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ৮৮ হাজারের বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু বিজেপি আমলে সেই সংখ্যা অনেক কম। নির্বাচনের আগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

বরাক উপত্যকার বেকারত্ব ও নিয়োগ-সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লাম্বা বলেন, নতুন শিল্পের অভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে। গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’ পদে নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব এবং স্থানীয়দের বদলে বাইরের প্রার্থীদের নিয়োগের অভিযোগও তোলেন তিনি। পাশাপাশি চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য এখনও দূর হয়নি বলেও দাবি করেন।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পরও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বেথুকান্দি স্লুইস গেটসহ বিভিন্ন বাঁধ মজবুত না হওয়ায় প্রতি বছর একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শিলচরের নিকাশি ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর দুর্বলতাও তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়াও সীমান্ত সমস্যা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং তার প্রভাবের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে দায়ী করেন লাম্বা। শিলচরের ফ্লাইওভার, তারাপুর করিডরের বিলম্ব, চা শিল্পের সংকট, যুবকদের বেকারত্ব এবং করিমগঞ্জের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে “সংকটজনক” আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শিলচর মেডিক্যাল কলেজে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও কর্মীর অভাব রয়েছে। স্কুলগুলিতেও শিক্ষক সংকট এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি গুরুতর সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
সবশেষে আলকা লাম্বা জানান, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, চা শিল্পের উন্নতি এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে জোর দেওয়া হবে। সীমান্ত সমস্যার সমাধানেও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “অবহেলার অবসান ঘটাতে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।”



