বরাক তরঙ্গ, ৩ এপ্রিল : বিদেশি বিতাড়ন ইস্যুতে বিজেপির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও যারা এই সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, তাদের পক্ষ থেকে আবারও পাঁচ বছরের সময় চাওয়া সম্পূর্ণ হাস্যকর।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অসমের এক নির্বাচনী সভায় দাবি করেন, বিজেপিকে আরও পাঁচ বছর সুযোগ দিলে রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন করা হবে। এই প্রেক্ষিতে বিডিএফ বরাকবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, রাজনৈতিক বিভাজনের ফাঁদে না পড়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকার প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভোট দিতে হবে। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বিডিএফের মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, আশির দশকের আসাম আন্দোলনের মূল ইস্যুই ছিল বিদেশি বিতাড়ন, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৮৫ সালে আসাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে অসম গণ পরিষদ (অগপ) দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও বিদেশি বিতাড়নে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সরকারের আমলেও এই ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি শনাক্তকরণের লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করা হলেও তা শেষপর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়নি। বিজেপির সমালোচনা করে প্রদীপ দত্তরায় বলেন, একদিকে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে সেই একই সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে—যা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতার পরিচয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী স্বার্থে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অনুন্নয়ন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্যাই বরাক উপত্যকার মূল সমস্যা। তাই ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবর্তে উন্নয়নকেই প্রাধান্য দিয়ে ভোট দেওয়া উচিত।”
এদিন বিডিএফের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে বরাক উপত্যকার দু’টি বিধানসভা আসন হ্রাস করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে। এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খাল সংস্কার, বাঁধ মেরামত, মহাসড়ক নির্মাণসহ একাধিক প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, শিলচরে মাল্টি মডেল লজিস্টিক পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বর্তমানে তার কোনও অগ্রগতি নেই, যদিও যোগীঘোপায় প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের পথে।
বিডিএফের আরেক আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে বলেন, গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় আটকে রয়েছে। পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, কৃষি ও চা শিল্পে স্থবিরতা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এই উপত্যকার প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। সব মিলিয়ে বিডিএফের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ধর্মীয় উস্কানি নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধানকে প্রাধান্য দিয়েই ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।



