৩ এপ্রিল : ইরানের আলবোরজ প্রদেশের করাজ শহরে অবস্থিত বি-১ সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৯৫ জন। প্রাদেশিক উপ-গভর্নর গোদরাতুল্লাহ সেইফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলাটি দুই দফায় হয়েছে। প্রথম হামলার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়। সেতুটি তেহরান-করাজ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত। হামলায় সেতুর মাঝের অংশ ধসে পড়েছে এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন পথচারী, আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা এবং ছুটির দিনে সেতুর কাছে অবস্থান করা পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
ইরান সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল পরিকল্পিতভাবে এই বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দেশটির দাবি, সেতুটির কোনো সামরিক ব্যবহার ছিল না। তবে কিছু সূত্র বলছে, এটি সরবরাহ লাইন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত শেখ জায়েদ সেতুসহ আঞ্চলিক অন্যান্য সেতুতে হামলার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চলছে। এর মধ্যে শিল্পকারখানা, ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



