মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ মার্চ : মাদক পাচার রুখতে আবারও বড় সাফল্য অর্জন করল পাথারকান্দি পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার গাঁজা বোঝাই একটি কন্টেনার লরি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে চালক, যাকে ধরতে ইতিমধ্যেই জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে NL-01N-4432 নম্বরের একটি কন্টেনার লরি ত্রিপুরা থেকে চোরাপথে রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি দিয়ে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছিল। লরিটি কাঁঠালতলি হয়ে চাঁদখিরা ফাঁড়ি এলাকার রাস্তা ধরে জাতীয় সড়ক দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল।
আগাম খবর পেয়ে পাথারকান্দি থানার পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকিং জোরদার করে। সন্দেহজনক যানবাহনের উপর কড়া নজরদারি চালানো হয়। অবশেষে মইনা বাইপাস এলাকায় পৌঁছাতেই পুলিশ লরিটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে থামাতে সক্ষম হয়। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই সুযোগ বুঝে চালক পালিয়ে যায়। ফলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরে পুলিশ লরিটিতে তল্লাশি চালিয়ে চমকে ওঠে। কেবিনের উপরিভাগে লুকিয়ে রাখা মোট ৩৮টি প্যাকেটে প্রায় সাড়ে চার কুইন্টাল গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ গাঁজার কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকা।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গাঁজাগুলি সম্ভবত ট্রেনযোগে আগে চাঁদখিরা এলাকায় পৌঁছানো হয়েছিল। এরপর সেগুলি অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে এই লরিতে তুলে দেওয়া হয়।ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তদন্তে নামেন জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সমজেলা এসপি অর্ণিবান শর্মা, পাথারকান্দি থানার ওসি মানসজ্যোতি বড়ো সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
সিডিএসপি অর্ণিবান শর্মা জানান, “উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং এর বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি। এই পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে আমরা সবদিক দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।পলাতক চালককে গ্রেফতার করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি জাল বিস্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য চক্রের সদস্যদের খোঁজেও তৎপরতা শুরু হয়েছে।



