অবাক কাণ্ড! সিদ্ধ হলো না মাংস, হাঁড়ি নিয়ে থানায়

Spread the news

২৫ মার্চ : ‘স্যর, ২০ বার চেষ্টা করেছি। তাতেও সিদ্ধ হচ্ছে না মাংস। আমায় ঠকিয়েছে।’ এমন অভিযোগ নিয়ে সটান থানায় সোলাদা হাজ। তাঁর হাতে আধ সিদ্ধ খাসির মাংসের হাঁড়ি। অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) অনন্তপুর জেলার তাডিপাটরি টাউন থানার ঘটনা। এমন অদ্ভুত অভিযোগ শুনে থানার পুলিশ আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ। মাংস বিক্রেতা খারাপ মাংস দিয়েছেন, এই অভিযোগ তুলে রীতিমতো FIR দায়ের করতে চান সোলাদা। তাঁর দাবি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা উনুনে চাপিয়ে রাখলেও মাংস পাথরের মতো শক্তই রয়ে গিয়েছে।

সূত্রের খবর, উগাদি (Ugadi) উৎসবের স্পেশাল মেনু হিসেবে সোলাদা হাজ বাজার থেকে খাসির মাথা ও মাংস কিনেছিলেন। খুব উৎসাহ নিয়ে তিনি বাড়িতে ‘তালকুরা’ বা মাংসের মাথার কারি ও মাংস রাঁধতে শুরু করেন। কিন্তু কপাল খারাপ! মশলা কষিয়ে বারবার জল দিলেও মাংস খাওয়ার যোগ্য হচ্ছিল না। হাজ জানান, তিনি প্রায় ২০ বার চেষ্টা করেছেন কিন্তু মাংস একেবারেই নরম হয়নি। শেষ মেশ ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। উনুনে বসানো সেই মাংসের হাঁড়ি তুলে নিয়ে তিনি হাজির হন টাউন সার্কেলের ইন্সপেক্টর আনন্দ রাওয়ের কাছে।

পুলিশ প্রথমে হেসেই কূল পাচ্ছিল না। তবে হাজের জেদ দেখে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করেন। থানায় ডেকে পাঠানো হয় সেই মাংস বিক্রেতাকে। পুলিশের জেরার মুখে পড়ে বিক্রেতা কবুল করেন, হয়ত খাসি খুব বুড়ো ছিল, তাই মাংস সিদ্ধ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের মধ্যস্থতায় সমস্যার সমাধান হয়। ওই বিক্রেতা বাজে মাংসের বদলে সম পরিমাণ টাটকা ও কচি খাসির মাংস দিতে রাজি হন।

আধ সিদ্ধ মাংস নিয়ে থানা যাওয়ার ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সর্বত্রই হাসির রোল এই কাণ্ড দেখে। তবে ইন্সপেক্টর আনন্দ রাও জানিয়েছেন, অভিযোগ যাই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করাই পুলিশের কাজ। মাংসের হাঁড়ি নিয়ে থানায় আসার ঘটনা তাডিপাটরি ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম। তবে এখন ওই এলাকায় সবাই সতর্ক— কচি পাঁঠা না দিলে কিন্তু পুলিশের ভয় আছে।
খবর : এই সময় অনলাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *