বরাক তরঙ্গ, ১৬ মার্চ : গুয়াহাটির এক অভিজাত হোটেলে রাজ্যের প্রায় ২২টি সংগঠনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আটাছুর সভাপতি মিলন বরগোহাঁইসহ আহোম সভা, টাইপা, আহোম সেনা, পূর্বাঞ্চল তাই সাহিত্য সভা, ফুরালুং সংঘ, আহোম জাতীয় গণ মঞ্চ এবং বিভিন্ন বংশাবলীর নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে আহোম জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আহোম জনগোষ্ঠীকে জনজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মূল দাবিকে সামনে রেখে আটাছুর সভাপতি মিলন বরগোহাঁই মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।
মিলন বরগোহাঁই বলেন, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলি আহোম জনগোষ্ঠীর দাবিগুলিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। তবে বর্তমান সরকার রংঘর সংরক্ষণসহ একাধিক দাবি পূরণ করেছে। আগের সরকার আহোম জনগোষ্ঠীর জন্য উল্লেখযোগ্য কাজ করেনি, কিন্তু হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার আহোম সমাজের জন্য অনেক কাজ করেছে। তাই তাঁকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সরকার আহোমদের দাবিগুলি পূরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আহোম জনগোষ্ঠীর একাধিক সংগঠনের সঙ্গে আজ তাঁর বৈঠক হয়েছে। নির্বাচন আচরণবিধি বলবৎ থাকায় নিজের বাসভবনে বৈঠক না করে এটি অনানুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছে এবং এতে কোনও সরকারি বিষয় আলোচনা করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত পাঁচ বছরে অসমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন এক ধাপেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন আলোচনা করবে। ফলাফল সম্পর্কে কিছু বলতে না চাইলেও তিনি জানান, ১০৩টি আসনে বিজেপি ভালো ফল করবে বলে তাদের আশা।

কংগ্রেসকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। আদার ব্যবসায়ী জাহাজের খবর রাখে না। আমার ভবিষ্যদ্বাণীতে আমি অটল আছি। অগপকে কত আসন দেওয়া যাবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। যদি কোনও সমস্যা থাকে, তা যুক্তিসহ অমিত শাহের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সংসদীয় বোর্ডে আলোচনা করা হবে। একটি রাজনৈতিক দলকে নিজের শক্তি দেখে নির্বাচনে লড়তে হয়, নাহলে কংগ্রেসকে সাহায্য করা হবে। বিজেপি ও অগপ কত আসন পেল তা হিসাব করার দরকার নেই—হাগ্রামা মহিলারীর মতোই এনডিএ হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে।”



