মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুন: উন্নয়নের অন্যতম প্রকল্প ভারতমালার আওতায় সেতু নির্মাণের কাজ চললেও, তার জেরে সলগই বাজার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। হাতাইছড়া নামক ছড়ার অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে তিনটি বসতবাড়ি সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং ডেঙ্গারবন্দ-আসাইঘাট গ্রামীণ সড়কের একাংশ। ফলে গোটা এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের লোয়াইরপোয়া ব্লকের অন্তর্গত সলগই জিপির সলগই বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের সমস্যা থাকলেও, স্থানীয়দের দাবি, ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্য সাথী বৈদ্য, তপতী বৈদ্যসহ অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৬০ বছর ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাদের অভিযোগ, সেতুর একটি পিলার ছড়ার ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে এবং ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে জলস্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলেই আশপাশের এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সেতু নির্মাণের পর থেকেই ভাঙনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সড়ক ও গ্রামীণ সড়কের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। নিজেদের বসতভিটা রক্ষার জন্য বাসিন্দারা বাঁশের গড় নির্মাণ করলেও প্রবল স্রোতের মুখে তা টেকেনি। একের পর এক গাছপালা, বাঁশঝাড় ও আবাদি জমি ছড়ার গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের কারণে বেশ কয়েকটি বাড়ির লেট্রিন, বাথরুম ও অন্যান্য স্থাপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। প্রতিনিয়ত মাটি ধসে পড়ায় যেকোনো সময় বসতঘর ছড়ার গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ভাঙনের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শুধু তিনটি পরিবারই নয়, সলগই বাজারের আরও বহু পরিবার এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী জেলা কমিশনার, সার্কল অফিসার এবং পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত পাকা প্রতিরক্ষা প্রাচীর, রিটেইনিং ওয়াল অথবা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের একটাই আবেদন— মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসন যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে বহু বছরের বসতভিটা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা পায়। এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে, ভয়াবহ এই ভাঙন রোধে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।



