বরাক তরঙ্গ, ১৫ মার্চ : গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তুলতে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে এক সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিলচরের জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ও নারী সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ের কমিটির সহযোগিতায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ডিএলএসএ-র সচিব সুভদ্রা আচার্য। স্বাগত বক্তব্যে তিনি নারীদের গার্হস্থ্য হিংসা থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
ডিএলসিসিআইডব্লিউ-এর চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট বীথিকা আচার্য গার্হস্থ্য হিংসা সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা (বর্তমান ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ধারা ৮৫) এবং ৩০৪বি ধারা (বর্তমান ধারা ৮০) সম্পর্কে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি তিনি নারীকে গার্হস্থ্য হিংসা থেকে সুরক্ষা আইন, ২০০৫ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তরুণ বিকাশ সুকাই গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি গার্হস্থ্য হিংসার ধারণা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি ডিএলএসএ, ডিএলসিসিআইডব্লিউ এবং সমাজকর্ম বিভাগের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এছাড়া জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক অশোক মহন্ত নারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করেন। তিনি সময়মতো হস্তক্ষেপ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য বিদ্যমান অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গার্হস্থ্য হিংসা থেকে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।



