বরাক তরঙ্গ, ১৩ জুলাই : এক যোগ ধরে দখল করে ভোগ করা সোনাবাড়িঘাট হাসাতালের জমি পুনরুদ্ধার হল। অবৈধভাবে আরসিসি করে নির্মাণ করা প্রায় ১১টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। সোমবার সোনাই সার্কল অফিসার দিবাকর দেব, হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ জমিল আহমদ বড়ভূইয়া সহ সদর ও রাঙ্গিরখাড়ি পুলিশের উপস্থিতিতে দখলমুক্ত করা হয়।
এ দিন দু’টি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে অবৈধ নির্মাণগুলি সরিয়ে ফেলা হয়। হাসপাতাল পরিচালন সমিতির চেয়ারপার্সনের প্রতিনিধি রাকা মজুমদার জানান, গত ১৩-১৪ বছর ধরে স্থানীয় যুবক তথা প্রাক্তন ভিডিপি সম্পাদক ডালিম মজুমদার ও তাঁর ভাইরা হাসপাতালের জমি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকেই জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ শুরু হলেও নানা বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ২০২৬ সালে হাসপাতাল পরিচালন সমিতির দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল মিলেছে।

তিনি জানান, অভিযুক্তরা হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দোকানের পরিধি বাড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যান এবং জমি দখলমুক্ত করার প্রতিটি উদ্যোগ কৌশলে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন। এছাড়া হাসপাতালের জল নিষ্কাশনের পথও বন্ধ করে দেওয়ায় বর্ষাকালে জল জমে হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
রাকা মজুমদারের দাবি, জমির অভাবের কারণে হাসপাতালের কোয়ার্টার নির্মাণ বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পাওয়াও দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। তিনি এই উচ্ছেদ অভিযানকে “দীর্ঘ সংগ্রামের জয়” বলে অভিহিত করেন এবং সফল অভিযান পরিচালনার জন্য সোনাই সার্কল অফিসার, জেলা কমিশনার ও সদর পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে হাসপাতালের সামনের অংশে অবৈধভাবে দখল করা চারটি দোকান স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকরা।



