বরাক তরঙ্গ, ৯ মে : অকালে জীবন দীপ নিভে গেল বছর ২৬ এর তরতাজা যুবক বড়জালেঙ্গা ইস্ট জিপির বড়জালেঙ্গা ৬ষ্ঠ খণ্ডের বাসিন্দা জয়দীপ দাশের। দীর্ঘ দিন ধরে জটিল কিডনি রোগে রোগভোগের পর বুধবার রাত অনুমানিক ২ টা শিলচর ম্যাডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জয়দীপ। তাঁর অকাল প্রয়াণে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর মা, ভাই-বোন সহ পরিবারের সদস্যরা।
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন মা করবী দাশ, ছোট বোন সুনিতা, ছোট ভাই শুভদীপ সহ আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের। তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনে তাদের বাড়িতে ছুটে আসেন প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য কৃপেশ ঘোষ, বিজেপি নেতা সীতাংশু দাস, শিক্ষাবিদ সুরজিৎ রুদ্রপাল, বড়জালেঙ্গা ইস্ট জিপির আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্যা দীপা নাথ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকবৃদ্ধ। বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ, ধলাইর প্রাক্তন বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস, বিজেপি ধলাই-নরসিংহপুর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় কৈরী, পুষ্পক পাল প্রমুখ জয়দীপের অকাল প্রয়াণে গভীর শোক ব্যক্ত করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জয়দীপ পিতৃহারা, ২০০৮ সালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁর বাবা প্রাণ হারিয়েছিলেন। আর তখন থেকেই জয়দীপের গোটা পরিবার মামার বাড়িতেই স্থায়ী ভাবেই বসবাস করে আসছেন। জয়দীপের তিন মামা যথাক্রমে রাধামাধব কলেজের অশিক্ষক কর্মচারী কমলেশ দাশ, অমলেন্দু দাশ ও সমরেশ দাশরা তাদের অতি স্নেহের ভাগিনাকে হারিয়ে রীতিমত বাকরুদ্ধ। জয়দীপের অকাল প্রয়াণ কোন অবস্থাতেই যেন তারা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না । জয়দীপের চিকিৎসা সহ যে কোন আবদার পূরণে খামতি রাখেননি তার মামারা। এককথায় জয়দীপের অকাল প্রয়াণে তাঁর পরিবার সহ গোটা এলাকায় নেমে এসেছে এক বিষাদের ছায়া। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জয়দীপের চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য লক্ষীপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌশিক রায় ও বড়খলার নবনির্বাচিত বিধায়ক কিশোর নাথের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রয়াতের পরিবারের সদস্যরা।



