আশু চৌধুরী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৯ মে : দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শনিবার শিলচরেও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। শিলচরের আর্য সংস্কৃতি বোধনী সমিতির উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব শিলচর ও শিলচর পুর নিগমের যৌথ পরিচালনায় তারাপুর ইন্ডিয়া ক্লাব প্রাঙ্গণে স্থাপিত কবিগুরুর প্রতিমূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি আয়োজিত হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশাল শোভাযাত্রা।

শনিবার সকাল থেকেই শিলচরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বকবির প্রতিমূর্তির পাদদেশে গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন শিল্পীরা।
এছাড়াও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় সহ শহরের একাধিক সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শন তুলে ধরার প্রয়াস চালানো হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজেপির জেলা সভাপতি রূপম সাহা বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি বা সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য আজও সমাজকে দিশা দেখায়।”
বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মিলনের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষচন্দ্র দেব বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম, প্রবন্ধ ও চিন্তাধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সমাজে বিভাজন, হিংসা, ঘৃণা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কবিগুরু সর্বদা মানবতাবাদ, সাম্য, যুক্তিবাদ ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি এমন এক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে মানুষ ধর্ম, ভাষা ও জাতিগত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস স্থাপন করবে।

সাংস্কৃতিক কর্মী ও সঙ্গীতশিল্পী সমর্পিতা ভট্টাচার্য জানান, আর্য সংস্কৃতি বোধনী সমিতির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই রবীন্দ্রজয়ন্তী নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে রবীন্দ্রনাথের অবদান অনস্বীকার্য। নোবেলজয়ী এই বিশ্বকবি ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা হিসেবেও বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে।




