মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ আগস্ট : ভারতরত্ন সুধাকণ্ঠ ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দক্ষিণ অসমজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। তাঁর কালজয়ী গান, মানবতার দর্শন এবং সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছে দক্ষিণ অসম ভূপেন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতা।
রবিবার দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় নিলামবাজারের সরস্বতী বিদ্যানিকেতনে। উঠতি শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় সুর ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ব্যতিক্রম গ্রুপ’-এর উদ্যোগে এবং দক্ষিণ করিমগঞ্জের রুদ্রাক্ষ সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের প্রধান আচার্য পুষ্পা দে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা পরিষদ সদস্য অভিজিৎ রায় বলেন, “ড. ভূপেন হাজারিকা শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার কণ্ঠস্বর। তাঁর গান মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ভালোবাসা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে।” তিনি আরও বলেন, ভূপেন হাজারিকার সৃষ্টি অসম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দক্ষিণ অসমের ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকে নিয়ে প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে এই ভূপেন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে প্রতিভাবান শিল্পীদের বাছাই করে মূল সাংস্কৃতিক মঞ্চে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতার জেলা কো-অর্ডিনেটর অরূপ রায় জানান, নির্বাচিত প্রতিযোগীরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শিলচর সংগীত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মহা-ফাইনালে অংশ নেবেন। পাশাপাশি ৮ সেপ্টেম্বর শিলচরের বঙ্গভবনে আয়োজিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনা পর্ব। সেখানে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে এবং কলকাতার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত দল ‘দোহার’সহ বিশিষ্ট শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হবে ‘শত কণ্ঠে ভূপেন’। প্রায় একশো জন শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হবে ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গান। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ সৌমিত্র পাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগীত শিক্ষিকা গীতা সরকার, সাংবাদিক মৃণাল সরকার, সন্ধ্যা কর, সৌভিক রায়সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা ভিত্তিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা হলেন—
বিভাগ ‘ক’: প্রথম রিয়া রানি দে, দ্বিতীয় রাজবীর দেব, তৃতীয় অপূর্ব দেবনাথ। বিভাগ ‘খ’: প্রথম রিকিতা রায়, দ্বিতীয় মেঘনা দেব। বিভাগ ‘গ’: প্রথম কেয়া দেব।
নিলামবাজারের এই আয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য হয়ে উঠেছে প্রতিভা প্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ এবং ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজারিকার অমর সৃষ্টির প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।



