নির্বাচিত বোর্ড ছাড়াই কর বৃদ্ধি নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৬ সেপ্টেম্বর : নির্বাচিত পুর বোর্ড না থাকা অবস্থায় শিলচর শহরে কর ও বিভিন্ন ফি বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। জলকর, ট্রেড লাইসেন্স, গান্ধীভবনের ভাড়া, জলাবদ্ধতা ও নিকাশি ব্যবস্থা-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের বরাক জোনাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহাদাত আহমদ চৌধুরী ওরফে স্বপন।
শাহাদাতের অভিযোগ, নাগরিকদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই পুর এলাকার প্রায় ১৭০টি ক্ষেত্রে কর ও ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জলকর, ট্রেড লাইসেন্স, গান্ধীভবনের ভাড়া ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সরব শাহাদাত আহমদ চৌধুরী_______

জলকরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিটারবিহীন আবাসিক জল পরিষেবার মাসিক ন্যূনতম হার ৩০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ট্রেড লাইসেন্স নবীকরণের ক্ষেত্রেও শিলচরে ব্যবসায়ীদের ওপর তুলনামূলক বেশি আর্থিক চাপ পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শহরের জলাবদ্ধতা ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহাদাত। তাঁর বক্তব্য, বছরের পর বছর নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায় হলেও বর্ষাকালে জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। করের অর্থ নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নে কতটা ব্যবহার হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।

গান্ধীভবনের ভাড়া ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শাহাদাত। তাঁর মতে, এতে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলির অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
গোলদিঘী মলের বর্তমান অবস্থা এবং শিলচরে ফ্লাইওভার ও মথুরাঘাট বরাক সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলির বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেন কংগ্রেস নেতা।

তবে শাহাদাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জানিয়েছেন, জনস্বার্থবিরোধী বা অযৌক্তিকভাবে কর ও ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ানো হবে না এবং আগের বৃদ্ধিগুলিও পর্যালোচনা করা হবে। হাউজিং অ্যান্ড আরবান অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী কৌশিক রায়ও জানিয়েছেন, কর বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, শিলচর পুর নিগমের প্রথম নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ৪২টি ওয়ার্ডে আগামী ৩ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৬ অক্টোবর ভোটগণনা হওয়ার কথা। ফলে কর বৃদ্ধি, নাগরিক পরিষেবা, জলাবদ্ধতা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মতো বিষয়গুলি নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *